সোনা

সোনা একটি ধাতব হলুদ বর্ণের মৌলিক ধাতু। বহু প্রাচীনকাল থেকে মানুষ এই ধাতুর সঙ্গে পরিচিত। অপরিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য, চকচকে বর্ণ, বিনিময়ের সহজ মাধ্যম, কাঠামোর স্থায়িত্বের কারণে এটি অতি মূল্যবান ধাতু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে সেই প্রাচীনকাল থেকেই। সোনা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অলংকার তৈরি করা হয়। বিশেষ করে সোনার তৈরি গয়না বাংলাদেশের নারীদের প্রথম পছন্দ।
ধারণা করা হয়, সোনা মানুষের আবিষ্কৃত প্রাচীনতম মৌল। নব প্রস্তর যুগেও সোনার তৈরি দ্রব্যাদি ব্যবহূত হতো। সে যুগের খননকৃত অনেক নিদর্শনে পাথরের জিনিসের সঙ্গে এগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিখ্যাত জার্মান সমাজতত্ত্ববিদ কার্ল মার্ক্সও সোনাকে মানুষের আবিষ্কৃত প্রথম ধাতু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অপরিবর্তনীয় রূপ, সহজ বণ্টনযোগ্যতা এবং চকচকে প্রকৃতির জন্য এটি অনেক আগে থেকেই অর্থের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহূত হতো। সোনার সঙ্গে পৃথিবীর অনেক বেদনাবিধুর ও ভয়ংকর কাহিনি জড়িত। সোনা অধিকারের লক্ষ্যে জাতিতে জাতিতে যুদ্ধ হয়েছে, প্রাণ হারিয়েছে অগণিত মানুষ।
প্রাচীনকালে সব জাতিতেই সোনার ব্যবহার ছিল। মিসরীয় সম্রাটদের দ্বারা নির্মিত পিরামিডগুলো খনন করে প্রচুর সোনার অলংকার ও জিনিস উদ্ধার করা হয়। মিসরীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সোনার সম্পর্ক সুগভীর। এ ছাড়া চীন ও ভারতে খ্রিষ্টপূর্ব দশম শতাব্দীতে সোনা ব্যবহূত হতো। খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম-সপ্তম শতাব্দীতে গ্রিসে সোনার তৈরি মুদ্রার প্রচলন ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে আর্মেনিয়ায় সোনার মুদ্রা ব্যবহূত হতো। ভারত এবং নুরিয়া অঞ্চলে (উত্তর-পূর্ব আফ্রিকা) প্রাচীনতম সোনার খনির সন্ধান পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা বিজয়ের জন্য স্পেনীয়রা অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেখানে ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের পর প্রাচীন ইনকাতে সোনার প্রাচুর্য দেখে কিমিয়াবিদরা অভিভূত হয়েছিল। ইনকাদের কাছে সোনা ছিল গুপ্ত ধাতু তথা সূর্য দেবতার ধাতু। তাদের মন্দিরগুলোতে বিপুল পরিমাণ সোনা রক্ষিত থাকত।
১৬০০ সালে রাশিয়ার খনি থেকে সোনা উত্তোলন শুরু হয়। তবে এর পরিমাণ খুব বেশি ছিল না। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে সেখানে সোনা উত্তোলনের পরিমাণ অনেকগুণ বেড়েছে।