পোড়া রোগীর সেবা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সারা দেশে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে। আহতরা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এমতাবস্থায় আগুনে পোড়া রোগীদের সেবা ও পুষ্টি পরামর্শ দিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্টের অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া চিকিৎসক মাসুদ রানা। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত। পোড়া রোগীর সেবা ও পুষ্টি বিষয়ে বিস্তারিত পড়ুন তাঁর লেখায়।

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় আহতদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়। গত সোমবার রাতের চিত্র।ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

পুড়ে যাওয়ার রোগীদের নিরাময় ও জটিলতা এড়াতে বিশেষ পুষ্টি সহায়তা ও সেবা প্রয়োজন হয়। পোড়া রোগীদের টিস্যু মেরামত ও পুনরুদ্ধারের জন্য উচ্চ ক্যালরি ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ প্রয়োজন হয়। পোড়া রোগীদের ত্বকের যত্ন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যথা নিরাময়, প্রয়োজনে স্কিন গ্রাফটিংয়ের মতো অস্ত্রোপচার করা লাগতে পারে।

আগুনে পোড়া রোগীর সেবা— হাসপাতালে যত্ন:

•  পোড়া রোগীরা দ্রুত ডিহাইড্রেট হয়। সে জন্য আইভি ফ্লুইড দিতে হয়

•  ব্যথানাশক ওষুধ দিতে হয়

•  ইনফেকশন প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হয়

•  পোড়া অংশে ড্রেসিং করাতে হয়

•  প্রয়োজনে স্কিন গ্রাফটিং করা লাগতে পারে।

আরও পড়ুন

ক্ষতের চিকিৎসা:

পোড়া জায়গা ভালো করে পরিষ্কার করতে হয়। মৃত টিস্যু অপসারণ এবং ক্ষত নিরাময়ের জন্য নিয়মিত ড্রেসিং করতে হয়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ:

পোড়া ক্ষত সংক্রমণের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয়।

ব্যথা নিরাময়:

পোড়া রোগীর ব্যথা নিরাময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যথা নিরাময়ে ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে।

স্কিন গ্রাফটিং:

গভীর ক্ষত নিরাময়ের জন্য বার্ন প্লাস্টিক সার্জন স্কিন গ্রাফটিং নামক অপারেশন করে থাকেন। সে ক্ষেত্রে রোগীর শরীরের অন্য অংশ থেকে ত্বক বা ডোনার গ্রাফটিং ব্যবহার করা হয়।

ডা. মাসুদ রানা, সহকারী সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ।

পুনর্বাসন:

এ পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি এবং অন্যান্য থেরাপি প্রদান করা দরকার হয়। এটা রোগীদের শারীরিক শক্তি ও কার্যকারিতা ফিরে পেতে সাহায্য করে।

পুড়ে যাওয়া রোগীদের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা:

পোড়া রোগীদের শরীরে অনেক বেশি ক্যালরি ও প্রোটিনযুক্ত খাবার প্রয়োজন হয়। অল্প অল্প করে বারে বারে উচ্চ ক্যালরি ও প্রোটিনযুক্ত খাবার  যেমন দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, বাদাম, ছোলা, সুজি, ফলের রস ইত্যাদি দিতে হবে।

ভিটামিন ও মিনারেল:

ভিটামিন সি-ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। যেমন লেবু, আমলকী, কমলা ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

ভিটামিন এ-ত্বক পুনর্গঠনে সহায়তা করে। যেমন গাজর, পেঁপে, কলাতে ভিটামিন এ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

জিংক ও আয়রন:

ঘা সারাতে দরকারি হলো জিংক ও আয়রন। যেমন ডিম, মাছ, বাদাম ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

প্রচুর পানি পান করা:

পোড়া রোগীকে বারবার পানি খাওয়াতে হবে। প্রয়োজনে ওরাল স্যালাইন দেওয়া যাবে।

মানসিক সাপোর্ট:

পোড়া রোগীরা মানসিক ট্রমা বা মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। তাই তাদের কাউন্সেলিং দরকার হয়। পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সমর্থন জরুরি।