মূল রোগের চিকিৎসা করা গেলে আত্মহননের পরিণতি এড়ানো সম্ভব

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোহিত কামাল পরামর্শ দিচ্ছেন।

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি নিয়মিত আয়োজন মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা। ২০২৩ সালে ২০ মে (শনিবার) প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাস্ট আয়োজিত ১৬৮তম এ সভায় অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানা প্রশ্নে উত্তর দেন বিজ্ঞ আলোচকেরা।

সভায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোহিত কামাল বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবেই প্রায় ৯০ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা সংঘটিত হয়। বিষণ্নতা এবং মানসিক চাপের সাথে আত্মহত্যার যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে।’ তাঁর এই বক্তব্যের আলোকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করা যেতে পারে যেমন-

পূর্বপরিকল্পনা ও সংকেত: ব্যক্তি আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার আগে কোনো না কোনো সংকেত দিয়ে থাকেন। যেমন—প্রিয় জিনিস বিলিয়ে দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা সরাসরি মৃত্যু নিয়ে কথা বলা। এই সংকেতগুলো সময়মতো ধরতে পারলে অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।

রোগ বনাম পরিণতি: আত্মহত্যা নিজে কোনো রোগ নয়, বরং এটি মানসিক অসুস্থতার (যেমন: ডিপ্রেশন বা বাইপোলার ডিজঅর্ডার) একটি চূড়ান্ত এবং করুণ বহিঃপ্রকাশ। অর্থাৎ, মূল রোগের চিকিৎসা করা গেলে এই পরিণতি এড়ানো সম্ভব।

আবেগীয় অসহায়ত্ব: যারা তাৎক্ষণিকভাবে বা হুট করে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন, তাদের ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা সাময়িকভাবে লোপ পায়। ওই মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকলে বা মানসিক সহায়তা পেলে তাদের জীবন রক্ষা করা সহজ হয়।