‘কপাল খারাপ’ লাইলীর ভাত জোটে না

প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে রংপুরে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। গতকাল গঙ্গাচড়া উপজেলার শংকরদহ চরে।ছবি: মঈনুল ইসলাম

‘মোর কপালটাই খারাপ’ বলেই কথা শুরু করলেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার শংকরদহ গ্রামের লাইলী বেগম (৫৫)। একসময় নিজের জমির আবাদেই সংসার চলত তাঁর। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই। নদীভাঙনে সব জমি হারিয়েছেন। তিন ছেলে-মেয়ে নিজেদের সংসার নিয়ে পৃথক থাকেন। লাইলী বেগমের শরীরও তেমন ভালো নয়, তা–ও এত দিন অন্যের বাড়িতে কাজ করেই পেট চালিয়েছেন। করোনাকালে কাজ হারাতে হলো। আর তিন দফা বন্যায় এখন খাবার জোটানোটাই সবচেয়ে কষ্ট। শরীর চলে না, তা–ও ছুটতে হয় তাঁকে।

প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার বন্যা ও নদীভাঙনকবলিত শংকরদহ গ্রামের ১০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণ পেয়ে লাইলী বেগম বলেন, ‘নদী ভাঙতে ভাঙতে মোর শোগ শেষ হয়া গেইছে। এ বছর তিনবার বান হইল। মেম্বার সাত কেজি চাউল দিছে। সেইটা দিয়া কয় দিন চলে, এলা ঘরোত একনাও চাউল নাই। তোমরা যে ত্রাণ দেনেন, সেইটা মোর কয়টা দিন আরামে চলবে।’

তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত শেখ হাসিনা সেতুর উত্তরে শংকরদহ চরে প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা ত্রাণ বিতরণ করেন। ত্রাণের প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, আলু ও লবণ। ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেন লক্ষ্মীটারি ইউপির সদস্য আবদুল মোন্নাফ, সমাজকর্মী তাকাদ্দাসাত সুজন প্রমুখ।

তিস্তা নদীর তিন দফা বন্যার পর এ বছর শংকরদহ গ্রামটি নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়ে। বসতভিটা, আবাদি জমি নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে এখানকার অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে রাস্তার পাশে কিংবা অন্যের জায়গায় বসতি গড়েছেন। এমন পরিবারদের খুঁজে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ পাওয়ার পর বাবলু মিয়া (৫৫) বলেন, ‘বাড়িত চারজন খাওয়াইয়া। একটা ছাওয়ার এমনিতেই পেটব্যথা। কয় দিন থাকি পেটোত ভালো কিছু পড়ে নাই। আইজ ভাত জুটপে।’

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল

হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০ ১১১৯৪

ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।