প্রথম আলো ট্রাস্ট
অন্ধকার কাটিয়ে নতুন করে দাঁড়াতে শুরু করেছেন
ঢাকার সাভারের ছেলে ইমাম হাসান । তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার ছোট। বাবা চাকরি করতেন, মা গৃহিনী। এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু সবকিছু তছনছ করে দেয় ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনা। ইমাম হাসানের বাবা ইসরাঈল বিশ্বাস ছয় তলায় স্টোর কিপার হিসেবে কাজ করতেন। ওই ঘটনায় তিনি মারা যান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা বেঁচে নেই। তবু থেমে থাকেননি।
এই পেরোনোর পেছনে আছে নানা প্রতিবন্ধকতা। মনে সাহস নিয়ে সেই প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছেন। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার আহছানউল্লা ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং থেকে আর্কিটেক্টে ডিপ্লোমা শেষ করেন। বর্তমানে তিনি একটা চাকরি খুঁজছেন ।
সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনার প্রথম দিন থেকেই প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে বন্ধুসভা ওষুধ ও সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালগুলোতে কাজ শুরু করে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তহবিলে সহায়তা প্রদান করেন। রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের জন্য মেরিল - প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়। এই তহবিলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনায় পতিত এবং আহত ব্যক্তিদের জন্য খাবার, স্প্রে, অক্সিজেন ও পানি সরবরাহ করা হয়। আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে, গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে পুনর্বাসনের জন্য ১০১ জনের প্রত্যেককে দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা। এ ছাড়া রানা প্লাজায় নিহত ব্যক্তিদের ২০ জনের সন্তানদের শিক্ষা বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্ব পর্যন্ত এই সহায়তা দেওয়া হবে।
ইমাম হাসান বলেন, ‘বৃত্তির টাকা দিয়েই পড়াশোনা করেছি। রানা প্লাজা ধসে আমার বাবা মারা যাওয়ার পর অর্থ কষ্টে ছিলাম। প্রথম আলো ট্রাস্ট সেদিন পাশে না দাঁড়ালে আমার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যেত। এই ঋণ আমি কোনো দিন শোধ করতে পারব না।’
Also Read
-
উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা–সংক্রান্ত বিধান বাস্তবায়নে নির্দেশ
-
বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা দ্রুত করার ব্যবস্থা হচ্ছে: মন্ত্রী
-
সৌরঝড়ে বাংলাদেশে ক্ষতির ঝুঁকি কম যে কারণে
-
বিএনপি নেতা রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
-
তালেবান তাদের প্রথম সুযোগ নষ্ট করেছে