default-image

খালিদ রেজা। বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায়। স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে তার সংসার। সাভারে ধসে যাওয়া রানা প্লাজার ৭ম তলায় নিউওয়েভ স্টাইল গার্মেন্টসে প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। রানা প্লাজা ধসে ডান হাত ও ডান পা ভেঙে গুরুতর আহত হয়েছিলেন খালিদ রেজা। চিকিৎসা করেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেননি। ভবনধসের পর বিজিএমইএ থেকে দেওয়া মজুরি, ক্ষতিপূরণ ও সিআরপির অনুদান পান। মেরিল-প্রথম আলো সাভার সহায়তা তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান পান তিনি। সেই অর্থ দিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রামপুরায় কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর দোকানের সংখ্যা ৩। খালিদ রেজা বলেন, প্রথম আলো ট্রাস্টের দেওয়া অনুদানে গত ৮ বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আর্থিকভাবে ভালো আছি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি কারখানায় প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পরই ভবনটি ধসে পড়ে। ছাদ ও দেয়াল ভেঙ্গে তার ওপর পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি আটকে যান সেখানে। রডের আঘাতে হাত-পা কেটে রক্ত ঝরছে। বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, রক্তে পুরো শরীর ভিজে যাচ্ছে। যেভাবে রক্ত ঝরছে তাতে মনে হচ্ছে বাঁচবো না। ফাঁকা একটি সুরঙ্গ দিয়ে বাইরের আলো দেখতে পাচ্ছি। ঠিক এই মুহূর্তে বাইর থেকে আওয়াজ আসলো ‘ভেতরে কেউ আছেন’। তখন আমি প্রাণ ফিরে পেলাম। শুধু শব্দ শোনা গেল, কিন্তু কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। আমিও আওয়াজ দিলাম। আছি, আমাকে বাঁচান। তিনিও আমাকে দেখতে পাচ্ছেন না আর আমিও তাকে দেখতে পাচ্ছি না। সুড়ঙ্গের আলোতে ছায়া পড়ায় বুঝতে পেরেছি, সেখান থেকেই আওয়াজ আসছে। আমি বললাম, একটু নিচু হয়ে সুড়ঙ্গ দিয়ে তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন। তিনি সুড়ঙ্গ দিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে আমাকে দেখতে পান। সেখান থেকে টেনে আমাকে বের করে কাঁধে করে হেঁটে হেঁটে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমাকে যিনি উদ্ধার করেছেন তার নাম সাইদুল ইসলাম। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রী।

বিজ্ঞাপন
সাভার সহায়তা তহবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন