দিনভর নানা খেলার আয়োজন, রান্নাবান্না আর বিকেলের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে চড়ুইভাতি উৎসব পালন করেছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার প্রথম আলো ট্রাস্ট-সাদত স্মৃতি পল্লীর শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার মেঘনা নদীর তীরঘেঁষা দড়ি হাইরমারা গ্রামে অবস্থিত সাদত স্মৃতি পল্লী প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকেই শিশু বিকাশ কেন্দ্রের ৫৮ জন শিক্ষার্থীর প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। চড়ুইভাতির এই আয়োজনটি শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগেই করেছে। প্রতিটি শিশু ৫০ টাকা করে চাঁদা দিয়ে বাজার করা থেকে শুরু করে রান্নার প্রস্তুতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। প্রকল্পের কর্মরত কর্মীরা খরচের বাকি অংশ বহন করেন।
দিনের সূচনা ঘটে ভেজা চিড়া ও মিষ্টির আপ্যায়ন দিয়ে। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয় রান্নার প্রস্তুতি, যেখানে স্থানীয় বাবুর্চির নির্দেশনায় শিশুরা পেঁয়াজ, রসুন ও আদা বাটা-কাটার কাজে অংশ নেয়। রান্না চলার ফাঁকে অন্য শিশুরা ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু, বউচি, গোল্লাছুট ও কাবাডি খেলায় মেতে ওঠে। দুপুর ২টায় রান্না শেষ হলে সবাই একসাথে দুপুরের খাবার উপভোগ করে।
খাবার শেষে বিকেলে সাদত স্মৃতি পল্লীর কাঠবাদাম গাছের ছায়ায় অনুষ্ঠিত হয় এক মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কেন্দ্রটির শিক্ষার্থী এশা, রোবেয়া, লামিয়া, ফাহিমা ও মুন্নী গান পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। শিশু বিকাশ কেন্দ্রের শিক্ষার্থী ও ক্লাস ক্যাপ্টেন ফাহিমা আক্তার তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলে, ' সারাবছর আমরা এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। আজ সারাদিন অনেক আনন্দ করেছি, খাবারও খুব সুস্বাদু হয়েছে।' অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রজেক্ট ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম, প্রজেক্ট অফিসার বেলায়েত হোসেন, সঙ্গীত প্রশিক্ষক নজির আহমেদ, নৃত্য প্রশিক্ষক রাহিমা আক্তার, সেলাই প্রশিক্ষক নাসিমা আক্তার ও ধর্মীয় ও নৈতিকতা প্রশিক্ষক সাবিকুল ইসলাম সহ আরও অনেকে।
শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদের আর্থিক সহায়তায় প্রথম আলো ট্রাস্ট এই প্রকল্পটি পরিচালনা করে আসছে। কেন্দ্রটিতে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার স্থানীয় শিশুদের বিনামূল্যে গান, নাচ, চিত্রাঙ্কণ, আবৃত্তি, নাটক এবং নৈতিক শিক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।