প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগ
ত্রাণসহায়তা পেল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৬০ পরিবার
কক্সবাজার পৌরসভার মহাজনপাড়ায় গতকাল বন্যার্ত ২৬০টি পরিবারের হাতে খাদ্যসহায়তা তুলে দেন প্রথম আলো বন্ধুসভা কক্সবাজারের সদস্যরা।
৯ দিন ধরে বন্যার পানিতে থাকলেও কেউ খোঁজ নিতে আসেনি বলে অভিযোগ করলেন সত্তোরোর্ধ্ব আনোয়ারা বেগম। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে দেওয়া ত্রাণসামগ্রী হাতে নিয়ে বললেন, আপাতত ভিক্ষা করতে হবে না। দুই মেয়ে আর দুই ছেলেকে নিয়ে কয়েকটা দিন খেতে পারবেন।
আনোয়ারা বেগমের বাড়ি কক্সবাজার পৌরসভার মহাজনপাড়ায়। গতকাল বুধবার সকালে প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ২৬০টি পরিবারে হাতে খাদ্যসহায়তা তুলে দেন প্রথম আলো বন্ধুসভা কক্সবাজারের সদস্যরা। আইপিডিসি পিএলসির সহযোগিতায় বন্যার্তদের মাঝে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
১৯৯১ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাড়ি হারান কুতুবদিয়া উপজেলার খুদিয়ারটেক এলাকার আনোয়ারা। তিনিসহ কুতুবদিয়ার খুদিয়ারটেকের ১২ হাজার পরিবারের ৬০ হাজার মানুষ মহাজনপাড়ায় খাসজমিতে ঠাঁই নিয়েছেন।
দুই দিন বিরতির পর গতকাল সকাল থেকে কক্সবাজারে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাজনপাড়া ছাড়াও সমিতিপাড়া, মোহাম্মদীয়াপাড়া, ভাঙ্গারমুখ, কুতুববাজার, ফদনারডেইল, পশ্চিম সমিতিপাড়ার ১০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা দেন বন্ধুসভার সদস্যরা। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হলে বন্যার্তদের কুতুববাজার এলাকায় আনা হয়। সেখানে বিকেল চারটা পর্যন্ত আরও ১৬০টি পরিবারের মধ্যে খাদ্যসহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
বন্যাদুর্গতদের খাদ্যসহায়তা তুলে দেওয়ার সময় ছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আকতার কামাল, কক্সবাজারে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল কুদ্দুস, পশ্চিম কুতুবদিয়াপাড়া সমাজ কমিটির সভাপতি আকতার উদ্দিন কুতুবী, প্রথম আলো বন্ধুসভা কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল নবী প্রমুখ।
আকতার কামাল বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে আপনারা জলবায়ু উদ্বাস্তুরা পানিবন্দী অবস্থায় পড়ে ছিলেন। আয়রোজগার বন্ধ। কিন্তু কেউ আপনাদের খোঁজ নিতে আসেনি। অথচ প্রথম আলো ছুটে এসেছে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে। এই খাদ্যসহায়তা দিয়ে প্রতিটি পরিবারের কয়েকটা দিন চলে যাবে। আমরা প্রথম আলোকে আবারও পাশে চাই।’
প্রথম আলো বন্ধুসভা কক্সবাজারের সভাপতি আবদুল নবী বলেন, ‘এত দিন এই ১ নম্বর ওয়ার্ডের এক হাজার ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে ছিল। এই মানুষগুলোর মুখে হাসি দেখেই আমরা আনন্দিত।’
বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন আপনিও
বন্যার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭২০০০০১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা; রাউটিং নম্বর ০৮৫২৬২৫৩৯। অথবা বিকাশে পেমেন্ট করতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট নম্বরে।
এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপের ডোনেশনের মাধ্যমেও আপনার সহযোগিতা পাঠাতে পারেন।