‘প্রথম আলোর মতো এত বেশি জিনিস আর ন পাই’

প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে পানিবন্দী একটি পরিবারের হাতে ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা। গতকাল চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দক্ষিণ হারালা এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

‘আঁরা (আমরা) আগে তোরা তোরা (অল্প অল্প) জিনিস পাইছি। প্রথম আলোর মতো এত বেশি জিনিস আর ন পাই (আর পাইনি)। প্রথম আলোর লাই (জন্য) আঁরা বেশি খুশি। আঁরার পরিবারের মানুষ খুশি, এলাকার মানুষ খুশি’—কথাগুলো কৃষক এনু মিয়ার (৪৫)। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার দক্ষিণ হারালা এলাকার বাসিন্দা।

গত বুধবার দুপুরে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে, আইপিডিসি পিএলসির সহায়তায় চন্দনাইশ উপজেলায় এনু মিয়ার পরিবারসহ ১০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণের প্রতিটি প্যাকেটে ছিল চাল, চিড়া, আলু, সয়াবিন তেল, মুড়ি, চিনি, মিনারেল ওয়াটার, বিস্কুট, মোমবাতি, খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, সাবান, মশার কয়েল, স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। ত্রাণ বিতরণে অংশ নেন চট্টগ্রামের পটিয়া বন্ধুসভার সদস্যরা। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরাও তাঁদের সহযোগিতা করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কেউছিয়া ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরপানি মাড়িয়ে, কোথাও বা নৌকায় করে গিয়ে ৬০টি পরিবারের মধ্যে প্রথম আলো পটিয়া বন্ধুসভার বন্ধুরা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

ত্রাণ পাওয়ার পর এনু মিয়া জানান, কৃষিকাজ করে সংসার চালান তিনি। তাঁর এক ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। বন্যার পানিতে টানা ৯ দিন পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন। এর আগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে অল্প কিছু চাল, চিড়া, মুড়ি, চিনি ও ডাল পেয়েছিলেন; কিন্তু আজকের (বুধবার) মতো এত বেশি ত্রাণ পাননি।

বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বন্ধুসভার সদস্যরা দক্ষিণ হারালা ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায় হাঁটুপানি পেরিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেন। দক্ষিণ হারালার সড়কের পাশে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করেন জেবর মুল্লুক (৭০) ও পাখি আক্তার (৬০) দম্পতি। ঘরের দরজায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা। পাখি আক্তার বলেন, ভাবতেই পারেননি এভাবে তাঁদের বাড়িতে এসে এত বড় ত্রাণের প্যাকেট কেউ দিয়ে যাবেন। কয়েক দিন নিশ্চিন্তে চলতে পারবেন।

একই এলাকার বিধবা মাবিয়া বেগমের ঘরেও ত্রাণ পৌঁছে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা। প্যাকেট হাতে পেয়েই কেঁদে ফেলেন তিনি। মাবিয়া বেগম বলেন, বন্যার সময় ঘরে হাঁটুপানি ছিল। পানি নেমে গেলেও কাদা আর গর্তে বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে। এর আগে সামান্য কিছু চাল ও চিড়া ছাড়া তেমন কোনো সহায়তা পাননি।

বন্যার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন আপনিও

বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭২০০০০১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। অথবা বিকাশে পেমেন্ট করতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপের ডোনেশনের মাধ্যমেও আপনার সহযোগিতা পাঠাতে পারেন।

আইপিডিসি পিএলসি দিয়েছে ৪,৩১,০০০ টাকা। বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৭,১০০ টাকা। চট্টগ্রাম বন্ধুসভা ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাতাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ৪৩,৩০৩ টাকা। প্রাপ্ত মোট অনুদান ৫,১১,৪০৩ টাকা।