‘এটা শুধু ত্রাণ নয়, এ যেন আমাদের জন্য আশীর্বাদ’

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পানিবন্দী ১০০টি পরিবারের হাতে গতকাল খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। 

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে বন্যাকবলিত এক ব্যক্তির হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব ডোংরা গ্রামে।ছবি: প্রথম আলো।

তিন মাস ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ৬৪ বছর বয়সী নাগু মিয়া। তাঁর স্ত্রী নূরুন্নাহার বেগম অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে কোনো রকমে দিন পার করছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি আর বন্যার পানি তাঁদের সামান্য আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে। পানির তোড়ে মাটির তৈরি ঘরের দুটির দেয়াল ভেঙে পড়েছে। রান্নাঘরে পানি, ঘরে নেই খাবার। পরিবারে উপার্জন করার মতো আর কেউ নেই। চারদিকে অনিশ্চয়তা আর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। ত্রাণসামগ্রী হাতে পেয়ে চোখের কোণে জল নিয়ে নূরুন্নাহার বেগম বলেন, ‘গরিব মানুষ আমরা। এর ওপর একের পর এক বিপদ। তবু এই ত্রাণ পাওয়াতে অন্তত খালি পেটে কয়েক দিন থাকা লাগবে না।’

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব ডোংরা গ্রামে এমন অসহায় ১০০টি পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেয় চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।

প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে বন্যাকবলিত এক ব্যক্তির হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব ডোংরা গ্রামে।
ছবি: প্রথম আলো।

দিনব্যাপী পরিচালিত এ কার্যক্রমে বন্ধুসভার সদস্যরা গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এক কেজি মুড়ি, তিন কেজি চাল, পাঁচ লিটার বিশুদ্ধ পানি, এক কেজি চিড়া, আলু, ডাল, বিস্কুট, গুড়, ওরস্যালাইন, মোমবাতি, লাইটার, সাবান, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ জরুরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ত্রাণ প্যাকেজ পৌঁছে দেন।

আজমপাড়ার প্রতিবন্ধী নূর আখতারের ঘরে পানি ছিল টানা চার দিন। তিনি বলেন, ‘বাসা থেকে পানি নেমে গেলেও বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আমার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাইরে গিয়ে যে খাবার কিনে আনব, সে সুযোগও নেই। প্রথম আলোকে ধন্যবাদ আমাকে খাবারের দুশ্চিন্তামুক্ত করার জন্য।’

 ত্রাণ পাওয়ার পর আবদুল করিম বলেন, ‘আমি এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারিনি। চারপাশে প্রচুর পানি। এ অবস্থায় আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রথম আলোকে ধন্যবাদ।’

সেলিম উদ্দিন প্রথম আলো ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য শুধু ত্রাণ নয়, এ যেন আমাদের জন্য একধরনের আশীর্বাদ।’

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বন্ধুসভার বন্ধু ইকবাল জিসান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, যতটা সম্ভব দুর্গম এলাকায় যাওয়ার। সেখানে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

 চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধু শাওন রায় বলেন, ‘আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেরাই বেশ আনন্দিত। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়েও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

বন্যার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন।

সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭২০০০০১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা; রাউটিং নম্বর ০৮৫২৬২৫৩৯। অথবা বিকাশে পেমেন্ট করতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট নম্বরে।

এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপের ডোনেশনের মাধ্যমেও আপনার সহযোগিতা পাঠাতে পারেন।