আবুল কাশেমের মতো দরিদ্র–অসহায় ২০০ মানুষকে সোমবার কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে কম্বল দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সৌজন্যে এসব কম্বল দেওয়া হয়।

কম্বল পেয়ে শীতার্ত বৃদ্ধ কোনই মোড়ল বলেন, জীবনে অনেক শীত পার করেছেন। তবে এবারের শীতের প্রকোপ একটু বেশি। তিনি আরও বলেন, ‘কম্বলডা পায়ে ভালো হবেনে, গায় দিয়ে বাঁচপানে।’ তাঁর বাড়ি কেশবপুর পৌরসভার হাবাসপোল গ্রামে। পাঁচ মেয়ে এক ছেলে তাঁর। দুই বছর আগে স্ত্রী মারা গেছেন। আজীবন ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়েছেন। দুই বছর আগে ভ্যান চালানো বন্ধ করে দেন।

মাজেদা বেগম তাঁর প্রতিবন্ধী মেয়ে রাজিয়াকে (২০) নিয়ে কম্বল নিতে আসেন। রাজিয়া তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখন দুই হাত ও দুই পা নড়াচড়া করতে পারেন না। মায়ের ওপরই তাঁকে ভরসা করতে হয়। কম্বল পেয়ে মেয়ে খুশি কি না, জানতে চাইলে মাজেদা বলেন, ‘মেয়ে হাসতেও পারে না।’

দেউলী গ্রামের এরশাদ আলী বলেন, ‘ইবার বেকায়দা শীত। শীতি দলা করে ফেলতেছে।’ ৭০ বছর বয়সী মনোহর নগর গ্রামের কুলসুম বলেন, তাঁর একটি ছেঁড়া কাঁথা আছে, তা দিয়ে শীত মানে না। কম্বলটা পেয়ে বেশ উপকার হলো।

কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজটির অধ্যক্ষ এ টি এম বদরুজ্জামান, কেশবপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান, বন্ধুসভার উপদেষ্টা বেগমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন মণ্ডল, প্রথম আলোর প্রতিনিধি দিলীপ মোদক, বন্ধুসভার সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রায়হান বাবু, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রণব পাল, ফরিদা ইয়াসমিন, হুসাইন আহম্মেদ, সোরাইয়া ইয়াসমিন, সাদিয়া খাতুন, মহিবুল্লাহ, লিটন হোসেন ও মামুন হোসেন।

শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল
হিসাব নম্বর: ২০৭২০০১১১৯৪
ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

অথবা বিকাশে পেমেন্ট করতে পারেন: ০১৭১৩-০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও আপনার অনুদান পাঠাতে পারেন।