অনুভূতি প্রকাশ
মা’কে শাড়ি কিনে দেওয়ার ইচ্ছা পূরণ হলো— এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই
প্ল্যানেটারি হেলথ অ্যাকাডেমিয়া-প্রথম আলো ট্রাস্টের মেডিকেল শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া অদম্য মেধাবী আমানুল্লাহ হোসাইন। আমানুল্লাহর বাড়ি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গয়েশবাড়ি গ্রামে। বাবা আজগার আলী ভ্যানচালক। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও কঠোর মনোবল নিয়ে এগিয়েছেন আমানুল্লাহ। এবার ভর্তি হয়েছেন রংপুর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে। শিক্ষাবৃত্তির টাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে কিছু আয় করেন তিনি। সেই আয় থেকে পরিবারে একটু সাপোর্ট দেওয়া চেষ্টা করেন। টিউশনির প্রথম মাসের বেতন দিয়ে মাকে প্রথমবার কিনে দিলেন শাড়ি। আনন্দঘন এই মুহূর্তের অনুভূতিগুলো লিখেছেন আমানুল্লাহ নিজে। পড়ুন বিস্তারিত তাঁর লেখায়।
জীবনে সুন্দর শাড়ি কবে পড়তে দেখেছি আমার ঠিক মনে নাই। কারণ রোজার ঈদের সময় এক সেট করে মেক্সি নিত। ওটা দিয়েই এক বছর পার করতেন। তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজের প্রথম ইনকাম দিয়ে আমার মাকে আমি শাড়ি কিনে দেব। সেই ইচ্ছা পূরণ হলো— এর চেয়ে আনন্দের কিছু নেই।
তারপর আসুন তাঁর ত্যাগের আরেকটা গল্প বলি। আমাকে পড়ানোর সময় আমাদের পরিবারের অবস্থা এতটাই খারাপ গেছে যে, নিজের মা-বোনের গয়নাটা পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল। কিন্তু আমাকে জানায়নি কখনো। শেষে আমি জানতে পারছিলাম আমার নয়ন আন্টির কাছ থেকে। জীবনে সুন্দর শাড়ি কবে পড়তে দেখেছি আমার ঠিক মনে নাই। কারণ রোজার ঈদের সময় এক সেট করে মেক্সি নিত। ওটা দিয়েই এক বছর পার করতেন। পাড়ার দাদি, ফুফু, চাচিদের দেখতাম সুন্দর সুন্দর শাড়ি পড়তে, কিন্তু মাকে কখনো দেখিনি। তবে আমারও মনে চাইতো, বলতে পারতাম না। কারণ আমার হাতে তো কোনো টাকা ছিল না। তাই তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজের প্রথম ইনকাম দিয়ে আমার মাকে আমি শাড়ি কিনে দেব।
তাই নিজের টিউশনির প্রথম মাসের বেতন দিয়ে মায়ের জন্য একটা শাড়ি কিনেছি। এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। আমার মনের ভেতর আনন্দের কী ঝড় যে বয়ে যাচ্ছে, আমি বলে বোঝাতে পারব না। মা— তুমি আমার জীবনে সবচেয়ে বড় গর্ব, আমার অহংকার।