পরিবারের প্রথম ডাক্তার হলেন অদম্য তৃষ্ণা

অদম্য মেধাবী তৃষ্ণা রাণী। সম্প্রতি এমবিবিএস পাস করেছেন তিনি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ গ্রামের অদম্য মেধাবী তৃষ্ণা রাণী। তিনি ২০১৮-২০১৯ সেশনে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি হন। পরে ওই বছরই মাইগ্রেশন করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ চলে আসেন। চলতে থাকে ডাক্তার হওয়ার পড়াশোনা। একে একে সব পরীক্ষায় পাস করে চূড়ান্ত প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেন। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলে উত্তীর্ণ হয়ে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এখন ইন্টার্নশিপে যোগ দেওয়ার পালা। উল্লেখ্য, তৃষ্ণা রাণী ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী তহবিল থেকে শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে এইচএসসি ও এমবিবিএস পর্যায়ে পড়াশোনা করেছেন।

অদম্য মেধাবী তৃষ্ণা রাণী। সম্প্রতি এমবিবিএস পাস করেছেন তিনি।

তৃষ্ণার বাবা শ্রীবাস কির্তনীয়া কলাপাড়া পৌর শহরের একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করে সংসার চালান। আর মা কল্পনা রানী কির্তনীয়া বাড়িতে বসে হেলি পাতা দিয়ে ‘হোগলা’ বোনার কাজ করে কিছুটা জোগান দিতেন। তবে এখন আর হোগলা বোনার কাজ করেন না। পাঁচ মেয়ের মধ্যে চারজনের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে পটুয়াখালী নার্সিং কলেজে মিডওয়াইফারিতে ডিপ্লোমা পড়ছে। আর ছেলে এ বছর (২০২৫) অনার্সে ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছে। তাই বাবার একার আয়ে কোনোমতো চলে যায় পরিবারের খরচ। এরই মধ্যে তৃষ্ণার এমবিবিএস পাসের খবর অন্যরকম আবহ তৈরি করেছে পরিবারে।

তৃষ্ণা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় আর বাবা-মায়ের আশীর্বাদে ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলাম। আমার বাবা-মায়ের সেই ছোট মেয়েটা আজকে ডাক্তার হয় গেল। আজকে সবার স্বপ্ন পূরণ হলো। পরিবারের প্রথম ডাক্তার হলাম আমি। এ আনন্দ বলে বোঝাতে পারব না আমি। আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন যেন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি।’

তৃষ্ণার ইচ্ছা বিসিএস দেবেন, উচ্চতর ডিগ্রি নেবেন। একজন গাইনী স্পেশালিস্ট হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান কলাপাড়ার এই অদম্য মেধাবী।