পড়াশোনা কীভাবে চালবে তা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে চলার পথ মসৃণ হয়ে গেল। এখন স্বপ্নপূরণে আমি এগিয়ে যেতে পারব।

ছয় বছর বয়সে পড়ালেখা শুরু করেন পাপ্পু। পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে পড়ালেখায় নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে মায়ের কাছ থেকে পড়া শুনে শুনে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন পাপ্পু।

পাপ্পুর মা ভারতী বলেন, জুয়েলারির কাজ করে তাঁদের সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু সন্তানের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আশায় চিকিৎসার জন্য সব সম্পত্তি শেষ হয়ে গেছে। তবে পাপ্পুর পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সে জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। সর্বশেষ এইচএসসি পরীক্ষায়ও পাপ্পু মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

default-image

পাপ্পু সিংড়া উপজেলার কলম গ্রামের বিমান কুমার পালের একমাত্র ছেলে। বিমান পাল সোনার গয়নার কারিগর। তিনি বলেন, জন্মের সময় থেকে পাপ্পুর চোখ দিয়ে সব সময় পানি পড়ত। ছোট বয়সেই তিনি অন্ধ হয়ে যান। পরে দেশের চিকিৎসকদের পাশাপাশি ভারত ও নেপালে গিয়েও ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু তেমন কোনো লাভ হয়নি। তবে চিকিৎসকেরা পাপ্পুর পরিবারকে জানিয়েছেন, যেকোনো সময় পাপ্পুর দৃষ্টি ফিরে আসতে পারে। সেই অপেক্ষায় আছে তারা।

পাপ্পু বলেন, ‘২০২১-২২ সেশনে সিংড়া গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু পড়াশোনা কীভাবে চালবে তা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে চলার পথ মসৃণ হয়ে গেল। এখন আমি আমার স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যেতে পারব। এখান থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে একই বিষয়ে বিসিএসদিয়ে শিক্ষকতা পেশা যেতে চাই আমি।’

অদম্য মেধাবী তহবিল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন