বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম থেকে কানাডায় যাওয়ার যাত্রা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইশরাত বলেন, ‘আমি যখন ফাইনাল ইয়ারে তখন থেকেই বাইরে আবেদন করা শুরু করি। এ ক্ষেত্রে এইউডব্লিউ’র প্রফেসরগণ সহযোগিতা করেছেন। আমি যেহেতু পাবলিক হেলথে স্নাতক করেছি, তাই এই রিলেটেড কোনো বিষয়ে মাস্টার্স করতে ইচ্ছা ছিল। যা হোক, আমার স্নাতকের ফলাফল পাওয়ার তিন দিনের মাথায় কানাডা থেকে অফার লেটার পাই। এটা খুব আনন্দের ছিল। পরে আমি ফান্ডের জন্য আবেদন করতে থাকি। আমি পাঁচতম প্রফেসরের কাছ থেকে ফুল ফান্ডের অফার পাই। পরে চলে আসি।’

এইউডব্লিউ’র জার্নিটা কিভাবে শুরু হলো জানতে চাইলে ইশরাত জানান, ২০১৫ সালে কলেজ শেষ করে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আমিও তাই করেছি। তবে আমি চট্টগ্রামের মানুষ হওয়ায় এইউডব্লিউ সম্পর্কে জানতাম। তবে এখান টিউশন ফি অনেক বেশি, সে জন্য আবেদন করতে চাইনি। বাবা-মা বললেন, করেই দেখ না। কিছু একটা হবে। পরে অফার লেটারে দেখি, কোনো টিউশন ফি লাগবে না। খুব আশ্চর্য হয়েছিলাম এটা দেখে। পরে জেনেছি যে, আমার কোনো টিউশন ফি লাগবে না। তারপর ভর্তি হয়ে যাই। এভাবেই এইউডব্লিউতে পথচলা শুরু।

default-image

এইউডব্লিউতে ভর্তির প্রস্তুতি সম্পর্কে ইশরাত বলেন, নতুন যারা ভর্তি হতে চায় তারা কলেজে থাকতে এক্সট্রা কারিকুলার এ্যাকটিভিটি করতে হবে। এটা আবেদন যাচাই বাছাইয়ে খুব সহযোগিতা করে। আমি নিজেও স্কুল কলেজে থাকতে নানা ধরনের এক্সট্রা কারিকুলার এ্যাকটিভিটি করেছি যা আমাকে এইউডব্লিউতে ভর্তির ক্ষেত্রে হেল্প করেছে বলে আমি মনে করি।

আমরা জানি যে এইউডব্লিউর পরিবেশটা একদম আলাদা। এ ক্ষেত্রে যে মেয়েটা কোনো এক্সট্রা কারিকুলার এ্যাকটিভিটি করেনি সে কিভাবে এই নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এইউডব্লিউতে এমন একটা পরিবেশ যেখানে সবাই কোপ-আপ করতে বাধ্য। কারণ এখানে অনেক ক্লাব আছে, নানা অনুষ্ঠান হয়। হঠাৎ করে প্রেজেন্টেশন দিতে হয়। মূলত: কমিউনিকেশন স্কিল এবং নিজেকে উপস্থাপন করার কৌশল এখানে রপ্ত করানো হয়। যার কারণেই আজকে আমি ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারছি।

পরিবারের প্রথম কন্যা সন্তান হিসাবে পড়াশোনা বা এইউডব্লিউতে আসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনে বাধার সম্মুখীন কি হতে হয়েছে আপনাকে? তিনি বলেন, দুইটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে। প্রথমত, আমাদের পরিবারে স্কুলের গণ্ডি পেরুলেই বিয়ের কথাবার্তা শুরু হয়ে যায়। অনেক আত্মীয় বলেছে আমাকে উচ্চতর শিক্ষার দিকে নেওয়া ঠিক হচ্ছে কিনা। কারণ অনেক খরচ করতে হবে। তার চেয়ে বিয়ে দিয়ে দাও। এ ক্ষেত্রে আমার মা অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। মা বলতেন, শিক্ষাটা কেউ নিতে পারে না। দ্বিতীয়ত: যখন দেশের বাইরে পড়ার প্রসঙ্গ উঠল। কেউ কেউ বলল, একা একা মেয়ে কেমনে বাইরে গিয়ে থাকবে, ইত্যাদি। কিন্তু ইতিমধ্যে এইউডব্লিউ আমাকে বিশ্ব মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করে ফেলেছে।’

নি:সন্দেহে পরিবার একটা বড় জায়গা সামনে এগিয়ে দেওয়ার জন্য। এখন যারা অধ্যয়নরত অদ্বিতীয়ারা আছেন তাঁরা কিভাবে প্রস্তুত হলে আরেকজন ইশরাত হতে পারবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব কাজকে উপভোগ করতে হবে। এইউডব্লিউর ৪ বছর নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। কারও সঙ্গে কম্পেয়ার করা যাবে না। প্রফেসরগণ যেভাবে গাইড করেন সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে। দিন শেষে কোনো কিছুই অসম্ভব না। সুতরাং সেটাকে মাথায় রেখে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

অনেক অদ্বিতীয়াকে আর্থিক, সামাজিক বা পারিবারিক কোনো না কোনো সমস্যার মধ্যে থাকে। এ রকম অদ্বিতীয়াদের জন্য আপনার কি পরামর্শ হবে তাঁদের স্বপ্নকে সত্যি করতে। এ ক্ষেত্রে ইশরাতের তাৎক্ষণিক জবাব, ‘সাহস হারানো যাবে না। যা হোক না কেন, সাহসটা ধরে রেখে সামনের লক্ষ্যে, স্বপ্ন পূরণর লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলও একটা বিষয়। ভালো ফল করে, ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডসহ অফার লেটার দেখালে পরিবারের পার্সপেক্টিভ পরিবর্তন হয়। তখন পরিবার থেকেই বলবে, যাও তোমার স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে যাও।’

দেশের বাইরে পড়াশোনার ক্ষেত্রে ফান্ডিংয়ের জন্য কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবে জানতে চাইলে ইশরাত জানান, প্রফেসরদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ থাকতে হবে। কারণ রিকমেন্ডেশন লেটার একটা বড় বিষয় ফান্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে। কোনো গবেষণা বা কোর্সের মধ্যে যে প্রজেক্টগুলো থাকে সেগুলোকে ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ এ ভালো করে উপস্থাপন করতে পারলে ফান্ড পাওয়া সহজ হয়।

default-image

ইশরাত একজন সিনিয়র অদ্বিতীয়া হিসেবে জুনিয়র অদ্বিতীয়াদের জন্য ফান্ড পেতে, বাইরে পড়াশোনার ব্যাপারে কতটুকু হাত বাড়াবেন জানতে চাইলে বলেন, অবশ্যই করব। গত মাসে এই অনুষ্ঠানের অদ্বিতীয়া ছিল দিলুফা তুজ জেরিন, সে এখন আমার কাছে কানাডায়। সে ফ্যামিলি মেডিসিনে ফুল ফান্ড বৃত্তি নিয়ে এসেছে এখানে। সুতরাং যেকোনো অদ্বিতীয়া আমার ফেসবুক ও ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারে। আমি চেষ্টা করব সহযোগিতা করতে।

সব শেষে ইশরাত বলেন, ‘প্রথম আলো ট্রাস্টকে জানাই অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাকে এ ধরনের একটা প্ল্যাটফর্মে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। সেই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানাই প্রথম আলো ট্রাস্ট ও এইউডব্লিউ’কে আমার পড়াশোনার পথকে মসৃণ করার জন্য। আমি আশা করি, আমি অনেক অদ্বিতীয়াকে বাইরে আবেদন করতে সহযোগিতা করতে পারব। একই সঙ্গে এইউডব্লিউ খুব ভালো একটা বিশ্ববিদ্যালয় যা তোমাকে একজন স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হেল্প করবে। শুধু নিজের মধ্যে কনফিডেন্স বাড়াতে হবে।’

২০১২ সাল থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এবং প্রথম আলো ফার্স্ট ফিমেল ইন দা ফ্যামিলি স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড নামে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান শুরু করে। প্রতিবছর পরিবারের প্রথম নারী অথচ অস্বচ্ছল, যিনি উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজ গঠনে আগ্রহী, এ রকম ১০ জনকে ট্রান্সকম গ্রুপের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া শুরু করে। ট্রান্সকমের সহায়তায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪২ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড এই শিক্ষাবৃত্তির দায়িত্ব নেয়। নামকরণ করা হয়েছে অদ্বিতীয়া। আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের সহায়তায় ৩৬ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনও তাঁদের আবাসন, টিউশন ফি সুবিধাসহ নানা সুযোগ দেয়।

অনুষ্ঠানটি একযোগে সম্প্রচারিত হয় প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেল, প্রথম আলোর ফেসবুক, প্রথম আলো এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের ফেসবুক থেকে। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন