আইডিএলসি-প্রথম আলো ট্রাস্ট ‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষাবৃত্তি
চা বাগান শ্রমিকদের উপকারে কাজ করবেন ‘অদ্বিতীয়া’ মনি মুন্ডা
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া চা শ্রমিকের মেয়ে মনি মুন্ডা। তিনি তাঁর পরিবারের প্রথম কন্যা সন্তান যিনি উচ্চশিক্ষার পথে পা রেখেছেন। অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখন পড়াশোনা করছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে। তাঁর অদম্য ইচ্ছা ও পারিবারিক অবস্থা বিবেচনায় দেওয়া হয় আইডিএলসি-প্রথম আলো ট্রাস্ট অদ্বিতীয়া শিক্ষাবৃত্তি। এখন তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথ অনেকটা মসৃণ।
চার বোনের মধ্যে বড় মনি মুন্ডা। তিনি তাঁর কমিউনিটি ও ছোট বোনদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। মনির ছোট বোন কৃষ্ণা মুন্ডাও বড় বোনের মতোই এসএসসি, এইচএসসিতে ভালো ফল করে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর্যায়ে আছেন। ভবিষ্যতে কি হতে চান জানতে চাইলে খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি জানান, পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই। স্নাতক শেষ করে দেশের বাইরে গিয়ে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে পরিবেশের জন্য কাজ করব।’
মনি মুন্ডা তাঁর সম্প্রদায়ের কথা কখনো ভুলেননি। এইউডব্লিউতে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত মনি চা বাগানের ছেলেমেয়েদের বিনা খরচে পড়িয়েছেন। এখনো স্বপ্ন দেখেন তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের লোকের জন্য কিছু করবেন। তাদের হয়ে কাজ করবেন। তাদের জীবনধারায় উন্নয়ন আনবেন। চা বাগানের শ্রমিকদের উপকারে কাজ করার কথা জানান অদ্বিতীয়া মনি মুন্ডা।
প্রথম আলো ট্রাস্ট প্রথম আলোর একটি মানবিক উদ্যোগ। সমাজের অনগ্রসর, পিছিয়ে পড়া ও দুর্দশাগ্রস্ত বিভিন্ন মানুষের পাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। এরই ধারাবাহিকতায় নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নেও কাজ করে যাচ্ছে। আর এই উদ্যোগে সহযোগী হয়েছে ট্রান্সকম গ্রুপ, আইডিএলসি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এবং প্রথম আলো ‘ফার্স্ট ফিমেল ইন দ্য ফ্যামিলি স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ নামে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান শুরু করে। প্রতিবছর পরিবারের প্রথম নারী অথচ দরিদ্র, যিনি উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজ গঠনে আগ্রহী, এ রকম ১০ জনকে ট্রান্সকম গ্রুপের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে এ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। ট্রান্সকমের সহায়তায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪২ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছেন।
পরবর্তীতে, ২০১৭ সাল থেকে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড এই শিক্ষাবৃত্তির দায়িত্ব নেয়। নামকরণ করা হয় ‘অদ্বিতীয়া’ নামে। আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের সহায়তায় ৪৬ জনসহ ২০২১ সাল পর্যন্ত মোট ৮৮ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনও তাঁদের আবাসন, টিউশন ফি সুবিধাসহ নানা সুযোগ দেয়।