‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া রুনা আক্তারের জীবনের গল্প অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা। তিনি জানালেন, ‘ছয় বছর বয়সে বাবা মারা যান। মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল আগেই। আমরা দুই ভাই-বোন বাবার কাছে থাকতাম। বাবাকে হারিয়ে তাই আমাদের কোনো ঠাঁই হচ্ছিল না। সে ক্ষেত্রে আমার জন্য পড়াশোনা করাটা একটা শৌখিনতা ছিল। কিন্তু আমি থেমে যাব না, এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। আমাকে যেভাবেই হোক পড়াশোনা করতে হবে এবং পড়াশোনা আমার আলো হিসেবে কাজ করবে। আমাকে অন্যের বাসাতে থেকে কাজ করে তারপর পড়াশোনা করতে হয়েছে। আমি যখন ঢাকায় আসি, আমি হারিয়ে যাই, এবং পরে একটি এনজিও-তে আমার স্থান হয়। সেখান থেকে আমাকে কনটিনিউ করতে হয়েছে। পরে আমি প্রথম আলো থেকে স্কলারশিপ পেয়েছি।’
এভাবে অনেক বাধা অতিক্রম এ পর্যন্ত এসেছেন রুনা আক্তার। নিজের একান্ত চেষ্টায় স্নাতক পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। তিনি ২০২১ সালে আইডিএলসি-প্রথম আলো ট্রাস্টের ‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষাবৃত্তি পান। শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের জনস্বাস্থ্য বিভাগে স্নাতক পড়াশোনা করেন। সম্প্রতি তিনি স্নাতক শেষ করে সমাবর্তনে অংশ নিয়েছেন।
সমাবর্তনে অংশ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানালেন। তিনি বলেন, ‘গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে আমার মনে সত্যিই অনেক উচ্ছ্বাস ছিল, দিনটা আমার জন্য খুবই স্পেশাল। এই অর্জনটা শুধু একটা সার্টিফিকেট নয়, আমার এত দিনের পরিশ্রমের ফল। চারপাশে সবাই যখন আনন্দ করছিল, আমিও সেই আনন্দটা মন খুলে উপভোগ করেছি। আজ মনে হচ্ছে আমি একটা ধাপ পার করেছি, সামনে যাওয়ার সাহসটা একটু বেড়েছে। নিজের ওপর আজ গর্ব হচ্ছে, কারণ এই পথটা সহজ ছিল না। আর মন থেকে কৃতজ্ঞ তাদের কাছে, যারা সব সময় পাশে থেকে আমাকে এখানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছেন।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) ১২ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি চট্টগ্রাম নগরের র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর মেজবান হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৫৩ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এই ২৫৩ জনের একজন হলেন রুনা আক্তার। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এইউডব্লিউর আচার্য শেরি ব্লেয়ার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি। সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়া সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ এইউডব্লিউর উপাচার্য ড. রুবানা হক ও এইউডব্লিউয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কামাল আহমেদ বক্তব্য দেন।