উদ্যোক্তা হতে চান ‘অদ্বিতীয়া’ ফার্নান্ডেস

প্রথম আলো ট্রাস্টের অদ্বিতীয়া শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী এ্যাশ্টেন ফার্নান্ডেস।

এ্যাশ্টেন ফার্নান্ডেস পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে। তিনি প্রথম আলো ট্রাস্টের একজন অদ্বিতীয়া শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী।তাঁর অদ্বিতীয়া হওয়ার গল্প জানতে চাইলে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বলতে গেলে ডাক্তার, পাইলট এমনকি চিত্রশিল্পী হতে চেয়েছিলাম। অনেক আঁকিবুকি করতাম। অনেকের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁরা প্রপার কোনো প্রফেশনাল ডিগ্রি নিতে উৎসাহ দিল। তা ছাড়া আমি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল কোনো কনভেনশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়ব না। পরে বন্ধদের মাধ্যমে এইউডব্লিউ ‘র সম্পর্কে জানতে পারি। পরে এখানে আবেদন করি, ভর্তি পরীক্ষা দেই। লিখিত পরীক্ষায় শর্টলিস্টেট হই। আমাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে টিকে যাই। আমি ২০১৪ সালে ভর্তি হই এক্সেস একাডেমিতে। এখান থেকে রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক শেষ করেছি। এইউডব্লিউ একটি লিবারেল আর্টস একটি বিশ্ববিদ্যালয়।একটি মাল্টিকালচারাল একটি বিশ্ববিদ্যালয়। কারণে এখানে প্রায় ১৪টি দেশের মেয়েরা পড়াশোনা করত আমি যখন পড়েছি। এখান থেকে অনেক কিছু শিখেছি। বর্তমানে যে আমি, যে পার্সোনালিটি ডেভেলপ করেছে আমার তা এইউডব্লিউ থেকে শিখেছি।

তাঁর এই সাফল্যের কথা ওঠে আসে ৩০ জুন ২০২২, বৃহস্পতিবার, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে প্রথম আলো ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত ‘অদ্বিতীয়ার গল্প’ নামক অনলাইন অনুষ্ঠানে। এ্যাশ্টেন ২০১৪ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (এইউডব্লিউ) এবং প্রথম আলো ‘ফার্স্ট ফিমেল ইন দ্য ফ্যামিলি স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পান। শিক্ষাবৃত্তি পেয়ে রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক শেষ করেছেন চট্টগ্রামে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন থেকে।

এখন কি স্বপ্ন দেখেন জানাতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি আসলে উদ্যোক্তা হতে চাই। ইতিমধ্যে আমি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, কাজের পরিবেশ ভিন্ন। এই ভিন্নতা ঠিক হতে সময় আরো লাগবে। এই পরিস্থিতে আমি নিজে কিছু করতে চাই। নিজের বস নিজে হতে চাই।’

এইউডব্লিউতে পড়াশেোনার অভিজ্ঞতা জানালেন এভাবে- ‘এইউডব্লিউতে মাল্টিকালচারাল পরিবেশ। এই পরিবেশটা আমার উপর প্রভাব ফেলেছে। অন্য সংস্কৃতির উপর সক্ষমতা বেড়েছে, ভিন্নভাবে চিন্তা করার বিষয়ে শিখিয়েছে। এখানে শিক্ষা কারিক্যুলামটা বুকিশ না। নিজের চিন্তা-ভাবনাকে এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এই ট্রান্সফরমেশনটা কাজের ক্ষেত্রে কোনো সুবিধা দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে জানান, অবশ্যই সুবিধা পেয়েছি। কিভাবে কথা বলতে হবে, নিজেকে কিভাবে তুলে ধরতে হবে সেটা শিখেছি। সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কীভোবে নিজের মত প্রকাশ করতে হয় তা শিখেছি।

আমি নিজে কিছু করতে চাই। নিজের বস নিজে হতে চাই।

২০১২ সাল থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এবং প্রথম আলো ফার্স্ট ফিমেল ইন দা ফ্যামিলি স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড নামে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান শুরু করে। প্রতিবছর পরিবারের প্রথম নারী অথচ দরিদ্র, যিনি উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজ গঠনে আগ্রহী, এ রকম ১০ জনকে ট্রান্সকম গ্রুপের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া শুরু করে। ট্রান্সকমের সহায়তায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪২ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড এই শিক্ষাবৃত্তির দায়িত্ব নেয়। নামকরণ করা হয়েছে অদ্বিতীয়া। আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের সহায়তায় ৪৬ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৮৮ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনও তাঁদের আবাসন, টিউশন ফি সুবিধাসহ নানা সুযোগ দেয়।

অনুষ্ঠানটি একযোগে সম্প্রচারিত হয় প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেল, প্রথম আলোর ফেসবুক, প্রথম আলো এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের ফেসবুক থেকে। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা।