পরিবারে প্রথম কন্যা সন্তান হিসেবে চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সময় পরিবারের সবাই কীভাবে নেয় জানতে চাইলে জানান, ‘এটা কঠিন ছিল। সবাই সাপোর্ট করেনি। আমি একটু পেছনে যেতে চাই, প্রথম আলোর সঙ্গে সম্পর্ক হয়, যেভাবে আমি এইউডব্লিউ যাই। আমি যখন এইচএসসি যখন পাস করি, তখন বাবা প্রথম আলোতে এইউডব্লিউ’র একটা বিজ্ঞাপন দেখে আমাকে আবেদন করতে বলেন। আমি আবেদন করি। পরীক্ষা দেই, ভাইভার জন্য ডাক পাই। ভর্তি হই। প্রথম আলোর ‍বৃত্তি পেলাম। এভাবে যাত্রাটা শুরু। হ্যাঁ, চাকরি ছেড়ে যখন নিজের কোম্পানি দাঁড় করানোর কথা মাথায় আসল, তখন বাবা-মা পাশে ছিলেন। তবে বাইরের মানুষকে বুঝাতে অনেক কষ্ট হয়েছে। আরেকটা বিষয়, আমাদের দেখে নারী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররা এখনো অনেক পিছিয়ে আছেন। দেশে-বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রচুর সুযোগ যে আছে তারা তা জানেন না। আমি সেই পথটা সুগম করার চেষ্টা করছি। বাইরে যে সুযোগগুলো আছে সেগুলোর সঙ্গে মেলবন্ধন করার জন্য একটি মিডিয়া তৈরি করতে চাই এই রিক্রুট-এর মাধ্যমে।’

একটা কথা, কখনো স্বপ্ন দেখা ছাড়া যাবে না। এগিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া পথ নাই।
default-image

বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০হাজারের মতো জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার পাস করে বের হয়। এই ইঞ্জিনিয়ারদের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হওয়া পথটা মসৃণ নয়। রিক্রুট এই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, ইনভেস্ট করে সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পথ সহজ করে দেয়, জানালেন তাহসিন।

হঠাৎ রিক্রুট করার কেন দরকার হলো, রিক্রুট-ই বা কেন নাম হলো। এর উত্তরে তাহসিন বলেন, আমার বাকি দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিশা ও ধনঞ্জয় গুগলসহ বিদেশের অনেকগুলো স্টার্ট-আপে কাজ করেছেন। সেখানে কাজ করতে গিয়ে দেখেন, ওখানে প্রচুর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দরকার হচ্ছে। কিন্তু তাদের হায়ারিংটা কঠিন। এখান থেকেই মাথায় আসে-আমরাও তো এই হায়ারিংয়ের কাজটা করে দিতে পারি। সেখান থেকেই ‘রিক্রুট’ নামটা রাখা। আমরা বিদেশের বিভিন্ন স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার হায়ারিংয়ের কাজটা করে দেই। আমরা ২০২০ সালে মার্চে কাজ শুরু করি। অফিস সেট-আপ আর ইঞ্জিনিয়ারসহ মে মাসে পুরোদমে শুরু করি। এখন অনেক ভালো চলছে।

default-image

তাহসিনের এখানে আসার কৃতিত্ব অনেকটা এইউডব্লিউকে দিলেন। কারণ এখানকার পড়াশোনার ধরন তাঁকে লিডারশিপ কী, তা শিখিয়েছে। আর উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন তো আগে থেকেই ছিল। এই দুইয়ে মিলে এই সাহসী উদ্যোগটা তিনি নিতে পেরেছেন।

রিক্রুটকে কোথায় দেখতে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রিক্রুটকে আরও বড় পরিসরে দেখতে চাই। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের আরও বেশি কানেক্ট করাতে চাই। এখানে একটা কথা বলতে চাই- আমি নিজে যেহেতু প্রথম আলো থেকে বৃত্তি পেয়েছি, প্রথম আলোর অদ্বিতীয়া, তাই আমিও চাই: এইউডব্লিউ যারা অদ্বিতীয়া বৃত্তি নিয়ে সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স) পড়ছেন তারা যদি আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুযোগটা নিতে চান আমরা অনেক খুশি হব। একটা কথা, কখনো স্বপ্ন দেখা ছাড়া যাবে না। এগিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া পথ নাই। সবাইকে বলব, স্বপ্ন দেখুন, নিজেকে সফল করুন, রিক্রুটের সঙ্গে থাকুন ।’

default-image

২০১২ সাল থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এবং প্রথম আলো ফার্স্ট ফিমেল ইন দা ফ্যামিলি স্কলারশিপ অ্যাওয়ার্ড নামে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান শুরু করে। প্রতিবছর পরিবারের প্রথম নারী অথচ দরিদ্র, যিনি উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজ গঠনে আগ্রহী, এ রকম ১০ জনকে ট্রান্সকম গ্রুপের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন এ শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া শুরু করে। ট্রান্সকমের সহায়তায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪২ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড এই শিক্ষাবৃত্তির দায়িত্ব নেয়। নামকরণ করা হয়েছে অদ্বিতীয়া। আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের সহায়তায় ৪৬ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৮৮ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পেয়েছেন। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনও তাঁদের আবাসন, টিউশন ফি সুবিধাসহ নানা সুযোগ দেয়।

অনুষ্ঠানটি একযোগে সম্প্রচারিত হয় প্রথম আলোর ইউটিউব চ্যানেল, প্রথম আলোর ফেসবুক, প্রথম আলো এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের ফেসবুক থেকে। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা।

অদ্বিতীয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন