সাক্ষাৎকার

চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন স্মৃতি রানী

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি নিয়মিত আয়োজন হলো ‘অদ্বিতীয়ার গল্প’। এ আয়োজনে আইডিএলসি-প্রথম আলো ট্রাস্টের ‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া একজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনলাইন এই আয়োজনে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ বিকেল ৫টায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ২০২২ সালে এই বৃত্তি পাওয়া স্মৃতি রানী মুদিকে। সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানের মেয়ে স্মৃতি রানী মুদি। বাবা হৃদেশ মুদি চা শ্রমিক ইউনিয়নের আওতাধীন একজন শিক্ষক। মা মিতা সিং রাউতিয়া একজন চা-শ্রমিক। মালনীছড়া চা-বাগানের মেয়েদের মধ্যে স্মৃতিই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পা রেখেছেন। তিনি চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) জনস্বাস্থ্য বিভাগের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের প্রথম নারী হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে যাওয়া এবং তাঁর স্বপ্নের কথাগুলো ওঠে এসেছে এ অনুষ্ঠানে। আয়োজনটি একযোগে সম্প্রচারিত হয় প্রথম আলো ও প্রথম আলো ট্রাস্টের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে। সভাটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা। প্রশ্ন উত্তর আলোকে অনুষ্ঠানের চুম্বক অংশ নিয়ে লিখেছেন মো. নাজিম উদ্দিন।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

স্মৃতি রানী মুদি, অভিনন্দন আপনাকে। দ্বিতীয় বর্ষে উঠেছেন, পড়াশোনা শুরু হয়ে গেছে। এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উঠে আসাটা তো কম যুদ্ধের বিষয় না। আমরা যারা বাইরে থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে দেখি, তারা জানি—এখানে ঢুকেই যেন এক ধরনের যুদ্ধের মধ্যে পড়তে হয়। ক্লাসে এক ধরনের যুদ্ধ, রুমমেটদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার যুদ্ধ, পরিবেশের যুদ্ধ। আমরা আপনার স্বপ্ন, আপনার ছোটবেলার সব গল্প শুনব। কিন্তু তার আগে এই গল্পটা শুনতে চাই—এইউডব্লিউ-তে আসার পরে আপনি এই সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিলেন কিভাবে?যখন ক্লাসে গিয়ে দেখলেন সবাই ইংরেজিতে কথা বলছে, তখন কি একবারও মনে হয়নি—কোথায় এসে ভর্তি হলাম? এখান থেকে আসলেই আমি সফলভাবে পাস করে বেরোতে পারব কিনা? এ রকম কোনো কনফিউশন, কোনো হতাশা কাজ করেছে কি?

স্মৃতি রানী মুদি: না। যেহেতু আমি আগে থেকেই জানি যে আমাকে এই পরিবেশে পড়তে হবে, তাই হয়তো ওইরকম নেতিবাচক ভাবনাটা আসেনি। বরং আমি চেষ্টা করেছি এই নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। আমাকে এখানে পড়াশোনা শেষ করতেই হবে, সেই মানসিকতা নিয়েই আমি এসেছি। তবে ইংরেজিতে ক্লাস করার বা কথা বলার ভয় সবারই ছিল। কিন্তু আমি এবং আমরা সবাই চেষ্টা করেছি যেন খুব দ্রুত এই ভাষাভীতি কাটিয়ে উঠতে পারি। আমরা যখন এই কঠিন সময়টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমার মনোবল ছিল একটাই—এটা পার হতে হবেই।যখন ক্লাসে গিয়ে দেখলেন সবাই ইংরেজিতে কথা বলছে, তখন কি একবারও মনে হয়নি—কোথায় এসে ভর্তি হলাম? এখান থেকে আসলেই আমি সফলভাবে পাস করে বেরোতে পারব কিনা? এ রকম কোনো কনফিউশন, কোনো হতাশা কাজ করেছে কি?

স্মৃতি রানী মুদি: না। যেহেতু আমি আগে থেকেই জানি যে আমাকে এই পরিবেশে পড়তে হবে, তাই হয়তো ওইরকম নেতিবাচক ভাবনাটা আসেনি। বরং আমি চেষ্টা করেছি এই নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। আমাকে এখানে পড়াশোনা শেষ করতেই হবে, সেই মানসিকতা নিয়েই আমি এসেছি। তবে ইংরেজিতে ক্লাস করার বা কথা বলার ভয় সবারই ছিল। কিন্তু আমি এবং আমরা সবাই চেষ্টা করেছি যেন খুব দ্রুত এই ভাষাভীতি কাটিয়ে উঠতে পারি। আমরা যখন এই কঠিন সময়টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমার মনোবল ছিল একটাই—এটা পার হতে হবেই।

স্মৃতি রানী মুদি: ধন্যবাদ আপনাকে এবং প্রথম আলো ট্রাস্টকে, আমার গল্প বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আসলে আমি যখন এখানে আসি, তখন আমার রুমমেটরা—আমরা তিনজনই চা-বাগান থেকে এসেছিলাম। প্রথম কিছুদিন তেমন অসুবিধা হয়নি। কিন্তু সমস্যাটা শুরু হলো ক্লাসে গিয়ে। আমাদের ইনস্ট্রাক্টরেরা ইংরেজিতে ক্লাস নিতেন। শুধু তাই নয়, আশপাশের যে ক্লাসমেটরা, তাদের অনেকেই কিন্তু বিদেশি—সবাই ইংরেজিতে কথা বলত। এটা আমার জন্য একেবারে নতুন একটা অভিজ্ঞতা ছিল। বাংলা মাধ্যম থেকে আসার কারণে ইংরেজিতে লেকচার শোনা বা পুরোপুরি বুঝতে পারার মতো অভ্যাস আমার একদমই ছিল না। প্রথম প্রথম খুবই কষ্ট হতো। কিন্তু ফার্স্ট সেমিস্টারে আমাদের একজন ম্যাম ছিলেন, আমার মনে হয় তিনি হয়তো আমাদের কথা মাথায় রেখেই কিছুটা সহযোগিতা করেছিলেন, যাতে আমরা সহজে বুঝতে পারি। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। আমি আগে থেকেই জানতাম যে আমাকে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হবে। তাই আমি এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি। কষ্ট হলেও আমি এটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করি। আমি মনকে বোঝাই—খারাপ ভালো যাই হোক, এটার মধ্য দিয়েই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। সেইভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছি, আর আস্তে আস্তে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

যখন ক্লাসে গিয়ে দেখলেন সবাই ইংরেজিতে কথা বলছে, তখন কি একবারও মনে হয়নি—কোথায় এসে ভর্তি হলাম? এখান থেকে আসলেই আমি সফলভাবে পাস করে বেরোতে পারব কিনা? এ রকম কোনো কনফিউশন, কোনো হতাশা কাজ করেছে কি?

স্মৃতি রানী মুদি: না। যেহেতু আমি আগে থেকেই জানি যে আমাকে এই পরিবেশে পড়তে হবে, তাই হয়তো ওইরকম নেতিবাচক ভাবনাটা আসেনি। বরং আমি চেষ্টা করেছি এই নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। আমাকে এখানে পড়াশোনা শেষ করতেই হবে, সেই মানসিকতা নিয়েই আমি এসেছি। তবে ইংরেজিতে ক্লাস করার বা কথা বলার ভয় সবারই ছিল। কিন্তু আমি এবং আমরা সবাই চেষ্টা করেছি যেন খুব দ্রুত এই ভাষাভীতি কাটিয়ে উঠতে পারি। আমরা যখন এই কঠিন সময়টার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমার মনোবল ছিল একটাই—এটা পার হতে হবেই।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

এই যে মনোবল—কঠিন সময়ে সেই সময়টাকে পার করে যেতে হবে, সুতরাং আমাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। হার মানাটা তো সহজ, কিন্তু চালিয়ে নিয়ে যাওয়াটাই তো সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। এই মনোবলটা পেলেন কোথায়?

স্মৃতি রানী মুদি: এই মনোবল যদি বলতে চাই, তবে আমাকে আমার বাবার গল্প বলতে হবে। আমার বাবা ছিলেন আমাদের আত্মীয়-স্বজন বা পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে প্রথম কলেজ পাস করা ব্যক্তি। তিনি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন—আমার থেকেও হয়তো অনেক বেশি। আমার বাবার সেই কঠিন লড়াই, সেই যুদ্ধটা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি কীভাবে প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করেছেন। সেই মনোবলটাকে, বাবার সংগ্রামকে দেখেই আমি সাহস নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, সন্তানরা বাবা-মায়েদের যুদ্ধ দেখেই আসলে সাহস পায়। সেই সাহসটাই আমাকে এই কঠিন সময়টা পার করে যেতে সাহায্য করেছে।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

এবার একটু ছোটবেলার গল্পে যাব। স্মৃতির ছোটবেলাটা কেমন ছিল? স্মৃতি কি ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখত চা-বাগানের মানুষের জন্য কাজ করবে? ছোটবেলার স্বপ্ন কি ছিল?

স্মৃতি রানী মুদি: ছোটবেলায় আমার বাবা চাইতেন যে আমি ডাক্তার হই। সে জন্য তিনি আমার জন্য ছোটবেলায় ডাক্তারের খেলার সরঞ্জামগুলোও কিনে আনতেন। এভাবে আমাকে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু যখন আমি জেএসসি পাস করি, তখন কেন জানি আমার ডাক্তার হওয়ার তেমন ইচ্ছা ছিল না। তখন আমি আর্টস নিয়ে নিলাম। বাবা অবশ্যই সেটাকে সমর্থন করেছিলেন। আর্টস নেওয়ার পর আমার আসলে ইচ্ছা ছিল আর্ট নিয়ে পড়াশোনা করার, কারণ আমি ছোটবেলা থেকেই একটু ছবি আঁকতে পছন্দ করতাম। আর্ট নিয়ে পড়াশোনা করার আমার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা দেওয়ার পরে আমি সফল হতে পারিনি। তখন ভাবলাম, বাংলা নিয়ে পড়ি। সেটাও একটা ইচ্ছা ছিল।

এরপরে আমি ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অ্যাপ্লিকেশন করলাম, সেখানে ইকোনমিকস চান্স পেলাম। কিছুদিন সেখানে পড়াশোনা করার পরই আমার বাবার ইচ্ছাতেই আমি এইউডব্লিউতে পরীক্ষা দিলাম। আমার বাবা ফেসবুকে মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে এখানে চা-বাগানের মেয়েদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আমাকে বললেন, তুমি ট্রাই করতে পার। সত্যি বলতে, ইংলিশে পড়ব বলে আমার অতটা আগ্রহ ছিল না। তারপরেও চেষ্টা করতে তো ক্ষতি নেই—তাই করলাম। তো মোরারিচাঁদ কলেজে ইকোনমিকস পড়া অবস্থায় আমি এখানে চান্স পেয়ে যাই। এরপর আমাদের ফ্যামিলিতে আলোচনা হচ্ছিল যে আমি এখানে আসব নাকি সেখানেই পড়ব। কিন্তু শেষমেশ একটা সিদ্ধান্তে আসলাম যে, আসি, যেহেতু বাবার এত ইচ্ছা।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

সিদ্ধান্ত নেওয়া কি কঠিন ছিল? কারণ আপনার মতো অনেকেই কিন্তু নানা পরিবেশের কথায় প্রভাবিত হয়ে, পরিবারের আশপাশে মানুষের কথায় প্রভাবিত হয়ে অনেক সময় নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেন। আপনার ক্ষেত্রে এমন কোনো বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছেন কি?

স্মৃতি রানী মুদি: বাধা-বিপত্তি বলতে ফ্যামিলি থেকে কোনো কিছু ছিল না। কিন্তু ওই যে, আশপাশের মানুষের ইনফ্লুয়েন্স—ওইটা হয়তো কিছু কিছু কাজ করছিল। তারপরেও ওইটা আমাদের ওপরেই নির্ভর করছিল। যেহেতু বাবা শুরু থেকেই চাইতেন যে আমি ভালো একটা কিছুতে যাই, সে ক্ষেত্রে আমার তেমন বাধা ছিল না। তবে হ্যাঁ, ইংলিশে পড়ব বলে ভয় ছিল, সবারই ছিল যে পারব কিনা। তো তারপরে এখানে আসা, তারপর দেখলাম যে একটু তো কষ্ট হবেই—এটা একদম নতুন পরিবেশ। তো সেটার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি, এখনো করছি। তবে আশা করি, আগামী দিনে এই ভয়টা পুরোপুরি কেটে যাবে এবং ভালো কিছু করতে পারব। আপনার পরিবার আপনার সঙ্গে আছে—এটা আপনার সবচেয়ে বড় সাহস, সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

এবার একটু স্বপ্নের কথা জানতে চাই। আপনার সেই জায়গা থেকে চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে আপনি কিভাবে কাজ করতে চান? কোন জায়গা থেকে শুরু করতে চান? কিছু পরিকল্পনা করেছেন কি?

স্মৃতি রানী মুদি: আমি এখনো বিস্তারিত পরিকল্পনা করিনি, তবে আমি আগের ওই যে আমাদের ম্যাগাজিনের সময় বলেছিলাম যে, আমি আমার মায়ের সঙ্গে ছুটির দিনে বাগানে কাজে যেতাম। সে ক্ষেত্রে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি যে একজন চা-শ্রমিককে কী পরিমাণ কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে—তাদের জীবন নিয়ে যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, আমি চাইব যে সেগুলো হয়তো আমি নির্মূল করতে পারব না, কিন্তু সচেতনতা অবশ্যই তৈরি করতে পারব। তাদের স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো নিয়ে যেন আমার কমিউনিটির মানুষেরা সচেতন হন। সেই সচেতনতা তৈরির কাজ দিয়েই আমি প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করতে চাই।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

এইউডব্লিউর পরিবেশ নিয়ে কিছু বলুন। আমরা জানি, শুধু পড়াশোনা করলেই চলে না, এখানে একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতে হয়। আমরা বলি না, ‘দশভুজা’ হতে হয়? পড়াশোনা, ক্লাস, টার্ম পেপার, অ্যাসাইনমেন্ট, মিড-ফাইনাল—এর মধ্যে আবার ওরিয়েন্টেশন, কালচারাল প্রোগ্রাম, ক্লাব অ্যাকটিভিটিস—সবকিছুর মধ্যে আপনাদের থাকতে হয়। সময় তো মাত্র ২৪ ঘণ্টা। এই কাজ, দায়িত্ব আর ভালো রেজাল্ট করার টেনশন—সবকিছু সামলে ওঠেন কি করে?

স্মৃতি রানী মুদি: সবকিছু সফলভাবে সামলানো—সেই ব্যাপারটা হয়তো আমরা এখনো পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারিনি। কিন্তু চেষ্টা করছি যেন করে যেতে পারি। করতে তো হবেই! আসলে দেখা যায়, অনেক সময় পরীক্ষার সময়গুলোতেও এসব অ্যাকটিভিটিস চলে আসে। যেগুলো স্কিপ করার মতো না, সেগুলো তো করতেই হয়। আর যেগুলো স্কিপ করা যায়, সেগুলো চেষ্টা করি যে তখন না করতে, অন্তত পরীক্ষার সময়। বাকি সময়টাতে সব অ্যাক্টিভিটিতে জয়েন করার চেষ্টা করি। এইভাবেই আসলে সময়টা ভাগ করে নিতে হয়।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

এখন যারা 'অদ্বিতীয়া' আছেন, যারা সারা দেশের নানা পরিবেশ থেকে এসে একই রকম অভিজ্ঞতার মধ্যে পড়বেন—তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি থাকবে? কীভাবে অন্তত প্রথম ছয় মাসের এই ডাইভার্স এনভায়রনমেন্টটা কিংবা এই ছয় মাসের যুদ্ধটা সামলে নেওয়া যায়?

স্মৃতি রানী মুদি: যেহেতু আমি নিজেও এখনো শিখছি, তাই হয়তো ওইভাবে পরামর্শ দিতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি যে, এখানকার টিচাররা কিন্তু অনেক ফ্রেন্ডলি। যদি আমরা আমাদের সমস্যার কথা বলি, তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন যেকোনোভাবে হোক বুঝিয়ে দেওয়া বা সাহায্য করার। সে ক্ষেত্রে আমি বলব যে ভবিষ্যতে যারা অদ্বিতীয়া হয়ে আসবেন, তারা যখন এ রকম সমস্যাগুলোতে পড়বেন, তখন অবশ্যই টিচারদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সমস্যাগুলো শেয়ার করতে হবে। তাঁরা যদি আপনার সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন, উনারা করে দিবেন। না হয় কোনো একটা পরামর্শ তো অবশ্যই দিবেন, যে যেভাবে হোক সেটা থেকে বেরিয়ে আসার একটা পথ বের হবে। আর আমাদের এখানে সিনিয়র অ্যাডভাইজার, সুপারভাইজাররা আছেন—তারাও কিন্তু জুনিয়রদের পাশে দাঁড়ান। ইউডব্লিউতে যারা আসে, তারা হয়তো আসে অপরিচিত হিসেবে, নতুন পরিবার থেকে; কিন্তু দিন শেষে একটা বড় পরিবারের অংশ হয়ে যায়। সবাই মিলে একটা পরিবার হয়েই আমরা এখানে থাকছি।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য। আপনার স্বপ্নের কথা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবার জন্য। আমরা চাই আপনার স্বপ্ন পূরণ হোক। আমরা চাই আপনি আপনার কমিউনিটিতে সচেতনতা তৈরি করতে পারুন। আমরা চাই আপনার পরিবারকে আপনি সব সময় পাশে পান এবং আমরা চাই আপনি সুস্থ থাকুন। আপনাদের স্বপ্ন যখন সত্যি হয়, তখন আমাদেরও ভালো লাগে।

স্মৃতি রানী মুদি: আপনাকে ধন্যবাদ এবং প্রথম আলো ট্রাস্টকে ধন্যবাদ।