সাক্ষাৎকার

‘গুটিয়ে রাখা বক্স থেকে নিজেকে বের করেছি—এতেই আমার আনন্দ’

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি নিয়মিত আয়োজন হলো ‘অদ্বিতীয়ার গল্প’। এ আয়োজনে আইডিএলসি-প্রথম আলো ট্রাস্টের ‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া একজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনলাইন এই আয়োজনে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি বিকেলে ৫টা আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সাবরিনা মনছুরকে। তিনি চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিভাগের স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। পরিবারের প্রথম নারী হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে যাওয়া এবং স্বপ্নের কথাগুলো ওঠে এসেছে এ অনুষ্ঠানে। আয়োজনটি একযোগে সম্প্রচারিত হয় প্রথম আলো ও প্রথম আলো ট্রাস্টের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলো ট্রাস্টের সমন্বয়ক মাহবুবা সুলতানা। প্রশ্ন উত্তর আলোকে অনুষ্ঠানের চুম্বক অংশ নিয়ে লিখেছেন নাজিম উদ্দিন।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

ছোটবেলা কেমন ছিল, এইউডব্লিউর কথা শুনলেন কীভাবে?

সাবরিনা মনছুর: আমি ছোটবেলা থেকেই চুপচাপ স্বভাবের ছিলাম। পড়াশোনা ঠিকমতো করতাম। এভাবেই এই জায়গায় আসা। আর এইউডব্লিউর কথা একটা অনুষ্ঠানে শুনি। ওখানে এইউডব্লিউর নানা গল্প শেয়ার করা হয়। দেশে থেকে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার কথা শুনি। পরে ২০১৯ সালে আবেদন করি, পরীক্ষা দিই এবং টিকে যাই।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

এইউডব্লিউতে ভর্তির পরের অভিজ্ঞতা কেমন?

সাবরিনা মনছুর: একটা মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমার চেহারা বাঙালিদের থেকে একটু আলাদা। ক্যাম্পাসে প্রথম যখন যাই, আমাকে দেখে অনেকে কনফিউশনে ছিল। কেউ কেউ আমাকে ইন্দোনেশিয়ান মনে করত। বাংলাদেশি মেয়েরাও বিদেশি মনে করে ইংরেজিতে কথা বলত। এটা মজা লাগত আমার। যা হোক এখানে বিভিন্ন দেশের মেয়েরা পড়াশোনা করে। তাই সবার সংস্কৃতি সম্পর্কে জেনে, সবার সঙ্গে মিলেমিশে অনেক অভিজ্ঞতা যেমন অর্জন করেছি তেমনিভাবে আমার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পেরেছি।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

নতুন ক্যাম্পাসে কোন ধরনের চ্যালেঞ্জ ফেইস করেছেন কি?

সাবরিনা মনছুর: প্রি-ইউজিতে শুরুতে ১০ লাইনের একটা অ্যাসাইনমেন্ট করতে দেয়। নিজের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে। আমি ভেবে চিন্তে মাওলানা রুমির একটা উক্তি ‘তোমার হৃদয় যেটা বলে তুমি তাই কর’ এটা নিয়ে লিখি। আমার শিক্ষক এটা কেটে দেন। কীভাবে লিখতে হয়, সেটা শেখান ক্লাসে। অনেক বার কাটাকাটির পর লেখার ধরন শিখেছি। হোঁচট খেতে খেতে মানুষ দাঁড়িয়ে যায়—এটা আমি এইউডব্লিউ থেকে শিখেছি।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

নিজের সময় ব্যবস্থাপনা কীভাবে করেন আপনি?

সাবরিনা মনছুর: এ ক্ষেত্রে গুগল ক্যালেন্ডার ব্যবহার করি আমি। শিডিউল তৈরি করে নোট রেখে সময় ব্যবস্থাপনা করি। প্রায়োরিটি বেসিসে কাজ করি।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়ার কারণ কি?

সাবরিনা মনছুর: আসলে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়ে পড়ার আগ্রহ ছিল আমার। সেই ইচ্ছা থেকেই পাবলিক হেলথে পড়া। পাবলিক হেলথ পড়তে পড়তে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর আগ্রহ তৈরি হয়েছে আমার। আমার মনে হয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা চিন্তিত না। সবাই এটাকে ইগনোর করে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মানুষ অনেক চাপের মধ্যে থাকে। শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা ইচ্ছা আছে আমার।

তা ছাড়া ফাইনাল ইয়ারে একটা কোর্স থাকে আমাদের যেখানে প্রাইমারি ডেটা নিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গবেষণা করতে হয়। এই গবেষণার কাজ করতে গিয়েই মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

পরিবারের প্রথম নারী আপনি বিশ্ববিদ্যালয় পাস করেছেন। বাবা-মা ও পরিবারের অন্যদের অনুভূতি কেমন?

সাবরিনা মনছুর: আমার আজকের অবস্থানের জন্য বাবা-মা ও অন্যরা সবাই অনেক খুশি। আমি আগে চুপচাপ থাকতাম, তেমন কথা বলতে পারতাম না। এখন আমি আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে পারি, যেকোনো বিষয়ে মতামত দিতে পারি। গুটিয়ে রাখা একটা বক্স থেকে নিজেকে বের করেছি—এতেই আমার আনন্দ।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

স্বপ্ন পূরণের প্রস্তুতি কেমন?

সাবরিনা মনছুর: চেষ্টা করছি নিজেকে তৈরি করার। স্বপ্নপূরণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে এ রকম টেকনিক্যাল কিছু কোর্স করছি।

প্রথম আলো ট্রাস্ট:

এখন যারা অদ্বিতীয়া আছে, তাদের উদ্দেশে কিছু বলেন।

সাবরিনা মনছুর: সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাকে দেখ—কখনো আত্মবিশ্বাস হারাবে না। কখনো চুপ থাকবে না। মানুষের কাছে যাবে, দক্ষতা বাড়াবে। দেখবে সাফল্য তোমার হাতের কাছে।