এই যাত্রায় কষ্ট ছিল, ভয় ছিল, তবুও হাল ছাড়িনি

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) ১২তম সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েট হয়েছে ‘অদ্বিতীয়া‘ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী উম্যেচিংমারমা।

খাগড়াছড়ি মেয়ে উম্যেচিং মারমা। তিনি তাঁর পরিবারের প্রথম কোনো সদস্য যিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছেন। তিনি চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতক (সম্মান) শেষ করেছেন। পরিবারের প্রথম নারী হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে যাওয়ার পথটা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যেও উম্যেচিং মারমা থেমে থাকেননি। নিজের একান্ত চেষ্টায় স্নাতক পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। তিনি ২০২১ সালে আইডিএলসি-প্রথম আলো ট্রাস্টের ‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষাবৃত্তি পান। সম্প্রতি তিনি স্নাতক শেষ করে সমাবর্তনে অংশ নিয়েছেন।

গর্বিত বাবা-মায়ের সঙ্গে ‘অদ্বিতীয়া‘ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী উম্যেচিং মারমা।

সমাবর্তনে অংশ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানালেন। তিনি বলেন, ' এই গ্র্যাজুয়েশন শুধু শেষ নয়, এটা আমার বেড়ে ওঠার গল্প। এই যাত্রায় কষ্ট ছিল, ভয় ছিল, তবুও হাল ছাড়িনি। যারা পাশে ছিলেন—পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু, আপনাদের বিশ্বাস আর ভালোবাসাই আমাকে এখানে এনেছে। এই অর্জনটা একা আমার না, আপনাদের সবার।'

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) ১২ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি চট্টগ্রাম নগরের র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর মেজবান হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৫৩ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এই ২৫৩ জনের একজন হলেন উম্যেচিং মারমা। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এইউডব্লিউর আচার্য শেরি ব্লেয়ার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি। সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়া সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ এইউডব্লিউর উপাচার্য ড. রুবানা হক ও এইউডব্লিউয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কামাল আহমেদ বক্তব্য দেন।