জাতিসংঘের ‘কপ-২৮’ সম্মেলনে যোগ দিলেন ‘অদ্বিতীয়া’ শিমি

পরিবারের প্রথম নারী, যিনি দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছেন, তাঁদের অনুপ্রাণিত করতে দেওয়া হয় আইডিএলসি ও প্রথম আলো ট্রাস্টের ‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষাবৃত্তি। চট্টগ্রাম অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের (এইউডব্লিউ) শিক্ষার্থীরা পান এই বৃত্তি। আবাসন, টিউশন ফি মওকুফসহ তাঁদের নানা সুবিধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালে এই বৃত্তি পান শিমি চাক। তিনি ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু মোকাবিলায় বার্ষিক জাতিসংঘ সম্মেলন ‘কপ-২৮’ তে যোগ দিয়েছিলেন। সম্মেলন থেকে ফিরে শিমি লিখেছেন তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা কথা।

‘অদ্বিতীয়া’ শিক্ষা বৃত্তিপ্রাপ্ত শিমি চাক সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সম্মেলন ‘কপ-২৮’ এ যোগ দিয়েছেন।

আমি শিমি চাক, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পরিবেশ বিজ্ঞান থেকে স্নাতক শেষ করেছি। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেই আমি একজন ইয়ুথ ফেলো হিসেবে যোগদান করি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর প্রাইভেট চেন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে। এর মাধ্যমেই আমার ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে কাজ করার ও শিখার সুযোগটা পাই। এই ফেলোশিপের কোহর্ট থেকে আমি কপ-২৮ এ যাওয়ার সুযোগ পাই।

কপ (COP) বা ‘কনফারেন্স অব পার্টি’ হলো একটি বার্ষিক জাতিসংঘ সম্মেলন, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব নেতাদের একত্রিত করে। এর উদ্দেশ্য হলো আরও টেকসই ও স্থিতিস্থাপক ভবিষ্যৎ তৈরির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সমন্বয় করা, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু মোকাবিলায় জাতিসংঘের ‘কপ-২৮’ সম্মেলনে আগত বিভিন্ন দেশের ডেলিগেস্টরা।

বরাবরের মতো এবারও কপ-২৮ সম্মেলনে ইউএন কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী ১৯৮টি দেশের শীর্ষ নেতারা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করা ক্লাইমেট অ্যাকটিভিস্ট, গ্রাসরুট লেভেলে কাজ করা ব্যক্তিবর্গ, সায়েন্টিস্ট, অর্গানাইজেশন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ভিকটিমরা অংশগ্রহণ করেন। এবারের কপ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ৩০ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এক্সপো সিটিতে।

এটি আমার প্রথম কপে অংশগ্রহণ, তাই শেখার জায়গা ছিল বিস্তীর্ণ। পাশাপাশি আমি যেহেতু ইন্ডিজিনাস কমিউনিটির, সেই প্রেক্ষাপট থেকে আমিও অন্যান্য দেশের ইন্ডিজিনাস কমিউনিটি ও ইয়ুথদের থেকে অনেক শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি। তা ছাড়া এবার কপে বাংলাদেশ থেকে তরুণদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, যেটা ছিল আশাব্যঞ্জক। আমি চাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের দেশের তরুণদের আরও বেশি যুক্ত করা হোক, তাদের দাবি-দাওয়া উত্থাপন করুক, যাতে করে এর প্রভাব মোকাবিলা সহজ হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাই একজন তরুণ হিসেবে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব চাই। আমার নিজের লিডারশিপের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে চাই। যেমন আমি একটি ইভেন্টে দেখেছি, একজন ব্রাজিলিয়ান রেইন ফরেস্টের তরুণ তাঁর কমিউনিটির দুঃখ-দুর্দশার কথা বলেছেন এবং তিনি তাঁর নিজের ভাষায় বলেছেন। যা আমার কাছে ইনক্লুসিভ মনে হয়েছে।

অন্যদিকে কপ সম্মেলনটি একটি নেটওয়ার্কিং জোন। এখানে অংশগ্রহণ করে আমি কপের প্রসেস সম্পর্কে অনেক অবগত হয়েছি। কপে কি হয়, কি নিয়ে আলোচনা করা হয়, কারা থাকেন, কারা নীতিমালা নির্ধারণ করেন এবং এতে অন্যান্য দেশগুলোর ভূমিকা, প্রতিক্রিয়া কেমন থাকে, তা স্বচক্ষে দেখেছি ও জেনেছি।

পাশাপাশি আমি নিজের জন্য আবিষ্কার করেছি যে, একজন তরুণ হিসেবে নিজের দেশ ও কমিউনিটির জন্য সুন্দর কিছু রেখে যাওয়ার জন্য হলেও নিজের জ্ঞানকে আরও বর্ধিত করতে হবে। কপ শুধুমাত্র জ্ঞান আরোহণের প্ল্যাটফর্ম নয় বরং এই প্ল্যাটফর্ম আমাদের সুযোগ দেয় নিজেদের দাবি দাওয়া তুলে ধরার, লিডারশিপ, পাবলিক স্পিকিং, লার্নিং বাই অবজার্ভিং সহ নানান স্কিলস বুস্ট করার। নিজের দক্ষতা ও লিডারশিপ বৃদ্ধি ছাড়াও অনেক কিছু শিখেছে এই সম্মেলন থেকে, যা আমার দেশ ও ব্যক্তিজীবনে উপকারে আসবে।