মাদকাসক্তের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন কী ইনোভেশন আছে

পরামর্শ প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ।

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে ২০২৬ সালের ২৫ জুন প্রথম আলোর কার্যালয়ে ১৭৮তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল আহমেদ। এ বারের প্রতিপাদ্য বিষয়টি ছিল ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী ফলাফল’। উক্ত আলোচনা থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

মাদকাসক্তের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন কী ইনোভেশন বা পরিবর্তন আসছে?

এর উত্তরে ডা. আহমেদ হেলাল বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে বড় ইনোভেশনটি হলো আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন বা ‘প্যারাডাইম শিফট’ । আমাদের সমাজ মনে করে যে মাদক নেয় সে একজন অপরাধী । কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে— মাদক গ্রহণকারী কোনো অপরাধী নয়, সে পরিস্থিতির শিকার একজন রোগী এবং মাদকাসক্তি একটি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি । যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে দেখা বন্ধ না করব, ততক্ষণ কোনো নতুন ইনোভেশন বা ফলাফল আসবে না । আমাদের হাত-পা ভেঙে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় বা চাকরি থেকে যেমন কেউ আমাদের বের করে দেয় না, তেমনি মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে কাউকে সমাজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা যাবে না । তাকে রোগী জ্ঞান করে তার প্রতি সমব্যথী হতে হবে।

দ্বিতীয় ইনোভেশনটি হলো কমিউনিটি বেজড ট্রিটমেন্ট (সমাজভিত্তিক চিকিৎসা) । আমরা মনে করি মাদকাসক্ত হওয়া মানেই তাকে ধরে কোনো রিহাব সেন্টারে বা হাসপাতালে ৬ মাস বা ৯ মাস আটকে রেখে বন্দি করে চিকিৎসা করতে হবে । তথাকথিত রিহাবের এই বন্দিজীবন অনেক সময় রোগীর মানবাধিকারের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায় । আধুনিক ইনোভেশন বলছে— রোগীকে তার পরিবারে রেখে, সমাজের ভেতরে রেখে, তার চাকরি, পড়ালেখা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রেখেই চিকিৎসা করা সম্ভব এবং এটি অনেক বেশি কার্যকর । থাইল্যান্ড বা জাপানের মতো দেশে এই মডেল সফলভাবে চলছে । আমাদের দেশে সামাজিক ঐক্য এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি অনেক বেশি । আমরা বন্যায়, খরায় বা কোভিডের সময় দেখেছি মানুষ কীভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে । তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে কেন আমরা সমাজভিত্তিক এই ঐক্য গড়ে তুলব না মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে, পরিবারের পরিমণ্ডলে রেখেই তার চিকিৎসা করা এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও ইনোভেটিভ মডেল।