পরিবার একটু সচেতন ও সহানুভূতিশীল হলে সন্তান ভুল পথে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে

পরামর্শ প্রদান করেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেখলা সরকার ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার আতিক।

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় গত ২৯ নভেম্বর প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৭৩তম পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেখলা সরকার ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার আতিক। ‘আমাকে কেউ বোঝে না (মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের মনের দূরত্ব)’—এই বিষয়ের ওপর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞগণ। উক্ত আলোচনা থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

সন্তানের বয়ঃসন্ধিকাল বিষয়ে অধ্যাপক মেখলা সরকার বলেন, বয়ঃসন্ধিকালমানুষের জীবনে এক বিরাট পরিবর্তনের সময়। এ সময় শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের মনে নানামুখী কৌতূহল, বিভ্রান্তি ও আবেগের ওঠানামা কাজ করে।‘ তাঁর এই বক্তব্যের আলোকে কিছু দিক বিশেষভাবে বিবেচনা করা যায় যেমন-

আবেগীয় সংবেদনশীলতা ও সুরক্ষা: যেসব শিশুর মধ্যে মানসিক নাজুকতা বা সংবেদনশীলতা বেশি থাকে, তারা পরিবেশের যেকোনো নেতিবাচক প্রভাব বা মানসিক চাপ খুব দ্রুত নিজের মধ্যে টেনে নেয়। অনেক সময় সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসিক নিরাপত্তার অভাবে তারা ভুল পথে বা নেশার দিকে পা বাড়ায়।

অভিভাবকত্বের ভূমিকা: বয়ঃসন্ধিকালে মা-বাবার ভূমিকা কেবল শাসন করার নয়, বরং একজন বন্ধু ও পরামর্শক হওয়ার। এ সময়ে সন্তানের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মা-বাবারও আচরণে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যাতে দূরত্ব তৈরি না হয়।

খোলামেলা যোগাযোগ: সন্তানের সঙ্গে প্রতিদিনের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কথা বলা, তাদের অনুভূতিকে মূল্য দেওয়া এবং তাদের মতামত শোনার পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সন্তান যেন বুঝতে পারে যে কঠিন পরিস্থিতিতেও তার পাশে অভিভাবক রয়েছে।

অধ্যাপক মেখলা সরকার আরও বলেন, বয়ঃসন্ধিকালের এই সংবেদনশীল সময়ে মা-বাবা এবং পরিবার যদি একটু বেশি সচেতন ও সহানুভূতিশীল হন, তবে অনেক তরুণ-তরুণীকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে রাখা সম্ভব।