২২ জুলাই, ২০২৫–এর দিনটি স্বাভাবিকভাবে শুরু হলেও দুপুরের পর বাংলাদেশের কারও কাছেই আর স্বাভাবিক থাকেনি। বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুলের ওপর ভয়াবহ আঘাত হেনে মুহূর্তেই লন্ডভন্ড করে দেয় আমাদের সব যুক্তিতর্ক-হিসাব। বাংলাদেশের বুক খালি করে নিমেষেই চলে যায় মাইলস্টোন স্কুলের বেশ কিছু কচি প্রাণ, আগুনে ঝলসে যায় ফুলের মতো নিষ্পাপ কিছু শরীর। ঢাকার হাসপাতালগুলো ভারী হতে থাকে আহতদের আর্তনাদে। টেলিভিশন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ফুটেজে অভিভাবকদের বুকফাটা কান্না, স্বজনদের আহাজারি, শিশুদের আতঙ্কিত চোখ আমাদের সবাইকে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় আচ্ছন্ন করে।
দৃশ্যগুলো আমাদের সারা রাত ঘুমাতে দেয় না, অস্থির করে, পোড়া শিশুদের জায়গায় নিজেদের সন্তানের মুখ ভেসে উঠলে শিউরে উঠি। বাংলাদেশের বুক খালি করে ওপারে চলে যাওয়া শিশুরা আমাদের অজান্তেই চোখ ভিজিয়ে দেয়।
এ ঘটনা আমাদের কাছে প্রশ্ন রেখে যায়, এমন ট্রমা ছোট ছোট শিশু বা আমরা সামলাব কীভাবে? দীর্ঘ মেয়াদে শিশুদের মনে এ ক্ষত কতখানি গভীর হবে?
ট্রমায় আমাদের মানসিক ক্ষতি:
অনেক ধরনের ভয় আমাদের তাড়া করলেও বলা যায় ‘মৃত্যুকেই’ মানুষ সবচেয়ে বেশী ভয় পায়। কাজেই মৃত্যুর কথা আমরা সচেতনভাবে মনে করতে চাই না। এ ভীতি আমাদের অবেচেতন মনে লুকানো থাকে। তবে যারা মানসিকভাবে একটু নাজুক তাদের ক্ষেত্রে কাছের বা পরিচিত মানুষের মৃত্যু অনেক্ সময়ে এই লুকানো মৃত্যুভীতি মনের সচেতন অংশে নিয়ে আসে।
যেসব ঘটনা আমাদের মৃত্যুর খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়, সেসব ঘটনায় উদ্বেগ, বিষন্নতা স্বাভাবিক মানসিক প্রতিক্রিয়া। সুতারাং এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আমরা বেশীরভাগ মানুষ কম বেশী আক্রান্ত হই। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আমাদের মস্তিষ্ক এই উদ্বেগ বা বিষন্নতা মানিয়ে নেয় এবং ধীরে ধীরে আমরা স্বাভাবিক জীবন-ছন্দে ফেরত আসি। তবে এই মানিয়ে নেবার সক্ষমতা সবার একরকম থাকে না বলে এধরনের ঘটনার পরে অনেকেরই নাজুক মন আরো বিপর্যস্ত হতে পারে এবং জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ সহজে ফেরত আসে না।
এ ধরনের ঘটনার পরে খুব কমন যেসব মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পার-
একিউট স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (Acute Stress Disorder)
পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (Post Traumatic Stress Disorder/PTSD)
অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার (Adjustment Disorder)
বিষন্নতা রোগ (Major Depressive Disorder)
অহেতুক ভীতি (ফোবিয়া) (Phobia)
প্যানিক অ্যাটাক বা আকস্মিক মৃত্যুভীতি (Panic Attack)
প্যানিক ডিসঅর্ডার (Panic Disorder)
হিস্টেরিয়া (Conversion Disorder/Hysteria)
ঘুমের সমস্যা জনিত রোগ (Sleep Disorder)
স্কুল ভীতি (School Refusal)
বিছানায় পেশাপ করা (Enuresis) ইত্যাদি।
কিভাবে বুঝবেন কখন আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নেবার প্রয়োজন?
প্রথমেই বলেছি, এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনায় আমাদের উদ্বেগ-বিষন্নতা শুধু স্বাভাবিক না, প্রত্যাশিতও বটে। কিন্তু এই উদ্বেগ-বিষন্নতা যদি দীর্ঘমেয়াদী হয় যা আপনার স্বাভাবিক জীবন প্রবাহকে বিপর্যস্ত করে, তখন আপনার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষ মনোযোগের দাবী রাখে।
মানসিক উপসর্গ সমূহ হতে পারে-
· মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া বা অল্পতেই রেগে যাওয়া
· অস্থির লাগা
· ঘুম কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুম হওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা
· মনোযোগ কমে যাওয়া, ভুলে যাওয়া
· নেতিবাচক চিন্তা, সব কিছু অনিরাপদ লাগা
তবে উপসর্গসমূহ কিন্তু শরীরের মাধ্যমেও জানান দিতে পারে। বরং বলা যায় উদ্বেগ-বিষন্নতার অন্যতম উপসর্গ কিন্তু শারীরিক।
শারীরিক উপসর্গ সমূহ হতে পারে-
· বুক ধড়ফড়, বুকে চাপ লাগা, বুক ব্যথা হওয়া
· শ্বাস নিতে সমস্যা, দম বন্ধ মনে হওয়া
· হাত পা, বুক জ্বালা পোড়া করা
· মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, শরীরের নানা অংশে ব্যথা
· মাথা ঘোরানো, হাটতে গেলে ব্যালান্স না পাওয়া
· শরীর নিস্তেজ বোধ করা, হাত-পায়ে কাপুনি
· পেট ফাপা লাগা, পেটে গ্যাস, পেট ব্যথা হওয়া, হজমে সমস্যা
· হাত–পা ঝিন ঝিন করা
· হাত–পায়ে খিচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি
ছোটদের ক্ষেত্রে বাড়তি উপসর্গ সমূহ হতে পারে-
· স্কুলে না যেতে চাওয়া (স্কুল ভীতি)
· চঞ্চলতা বেড়ে যাওয়া, সব সময়ে অস্থির থাকা
· পড়াশুনায় মনোযোগ কমে যাওয়া, পড়তে না চাওয়া, রেজাল্ট খারাপ করা
· জেদ বেড়ে যাওয়া, অবাধ্য হওয়া, খিটখিটে হয়ে যাওয়া
· অল্পতে কেঁদে দেয়া
· একা থাকতে ভয় পাওয়া , অল্পতেই চমকে উঠা
· খেলা কমিয়ে দেয়া, একা থাকতে চাওয়া, চুপচাপ হয়ে যাওয়া
শিশুদের শারীরিক উপসর্গ আরোও হতে পারে-
· বিছানায় পেশাপ করাট্রমায় আমাদের মানসিক ক্ষতি
অনেক ধরনের ভয় আমাদের তাড়া করলেও বলা যায় ‘মৃত্যুকেই’ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। কাজেই মৃত্যুর কথা আমরা সচেতনভাবে মনে করতে চাই না। এ ভীতি আমাদের অবচেতন মনে লুকানো থাকে। তবে যাঁরা মানসিকভাবে একটু নাজুক, তাঁদের ক্ষেত্রে কাছের বা পরিচিত মানুষের মৃত্যু অনেক সময় এই লুকানো মৃত্যুভীতি মনের সচেতন অংশে নিয়ে আসে।
যেসব ঘটনা আমাদের মৃত্যুর খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়, সেসব ঘটনায় উদ্বেগ–বিষণ্নতা স্বাভাবিক মানসিক প্রতিক্রিয়া। সুতরাং এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আমরা বেশির ভাগ মানুষ কমবেশি আক্রান্ত হই। কিন্তু সময়ের সঙ্গ সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্ক এই উদ্বেগ বা বিষণ্নতা মানিয়ে নেয় এবং ধীরে ধীরে আমরা স্বাভাবিক জীবন-ছন্দে ফেরত আসি। তবে এই মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা সবার একরকম থাকে না বলে এ ধরনের ঘটনার পর অনেকেরই নাজুক মন আরও বিপর্যস্ত হতে পারে এবং জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ সহজে ফেরত আসে না।
এ ধরনের ঘটনার পর খুব কমন যেসব মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পার—
অ্যাকিউট স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (Acute Stress Disorder)
পোস্ট–ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (Post Traumatic Stress Disorder/PTSD)
অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিজঅর্ডার (Adjustment Disorder)
বিষণ্নতা রোগ (Major Depressive Disorder)
অহেতুক ভীতি (ফোবিয়া) (Phobia)
প্যানিক অ্যাটাক বা আকস্মিক মৃত্যুভীতি (Panic Attack)
প্যানিক ডিজঅর্ডার (Panic Disorder)
হিস্টিরিয়া (Conversion Disorder/Hysteria)
ঘুমের সমস্যাজনিত রোগ (Sleep Disorder)
স্কুলভীতি (School Refusal)
বিছানায় প্রস্রাব করা (Enuresis) ইত্যাদি
কীভাবে বুঝবেন কখন আপনার মানসিক স্বাস্থ্য–সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন?
প্রথমেই বলেছি, এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনায় আমাদের উদ্বেগ-বিষণ্নতা শুধু স্বাভাবিক নয়, প্রত্যাশিতও বটে। কিন্তু এই উদ্বেগ-বিষণ্নতা যদি দীর্ঘমেয়াদি হয়, যা আপনার স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহকে বিপর্যস্ত করে, তখন আপনার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে।
মানসিক উপসর্গসমূহ হতে পারে—
· মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া বা অল্পতেই রেগে যাওয়া
· অস্থির লাগা
· ঘুম কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুম হওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা
· মনোযোগ কমে যাওয়া, ভুলে যাওয়া
· নেতিবাচক চিন্তা, সবকিছু অনিরাপদ লাগা
তবে উপসর্গসমূহ কিন্তু শরীরের মাধ্যমেও জানান দিতে পারে। বরং বলা যায়, উদ্বেগ-বিষণ্নতার অন্যতম উপসর্গ কিন্তু শারীরিক।
শারীরিক উপসর্গসমূহ হতে পারে—
· বুক ধড়ফড় করা, বুকে চাপ লাগা, বুকব্যথা হওয়া
· শ্বাস নিতে সমস্যা, দমবন্ধ মনে হওয়া
· হাত–পা, বুক জ্বালাপোড়া করা
· মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা, শরীরের নানা অংশে ব্যথা
· মাথা ঘোরানো, হাঁটতে গেলে ব্যালান্স না পাওয়া
· শরীর নিস্তেজ বোধ করা, হাত-পায়ে কাঁপুনি
· পেট ফাঁপা লাগা, পেটে গ্যাস জমা, পেটব্যথা হওয়া, হজমে সমস্যা
· হাত–পা ঝিনঝিন করা
· হাত–পায়ে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি
ছোটদের ক্ষেত্রে বাড়তি উপসর্গসমূহ হতে পারে—
· স্কুলে না যেতে চাওয়া (স্কুলভীতি)
· চঞ্চলতা বেড়ে যাওয়া, সব সময় অস্থির থাকা
· পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া, পড়তে না চাওয়া, রেজাল্ট খারাপ করা
· জেদ বেড়ে যাওয়া, অবাধ্য হওয়া, খিটখিটে হয়ে যাওয়া
· অল্পতে কেঁদে ফেলা
· একা থাকতে ভয় পাওয়া, অল্পতেই চমকে ওঠা
· খেলাধুলা কমিয়ে দেওয়া, একা থাকতে চাওয়া, চুপচাপ হয়ে যাওয়া
শিশুদের আরও শারীরিক উপসর্গ হতে পারে—
· বিছানায় প্রস্রাব করা
· স্কুলে যাওয়ার আগে পেটব্যথা, মাথাব্যথা ইত্যাদি
· শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে সমস্যা
· বুক ধড়ফড়, বুকে চাপ লাগা
· বমি বমি লাগা, খেতে না চাওয়া
· দুঃস্বপ্ন দেখা, চমকে ওঠা, ঘুমের মধ্যে ঝাঁকুনি
· হাত–পা, বুক জ্বালাপোড়া করা
· মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা, শরীরের নানা অংশে ব্যথা
· অল্পতেই ক্লান্তি বোধ করা
· হাত–পায়ে খিঁচুনি, ফিট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি
এসব উপসর্গ, বিশেষত শারীরিক উপসর্গে যদি শারীরিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্ট নরমাল আসে বা উপরিউক্ত উপসর্গের শারীরিক কারণ ব্যাখ্যা করা না যায় এবং এসব উপসর্গ যদি স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য–সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
কারা ঝুঁকিতে?
এ ধরনের ঘটনায় মাইলস্টোনের হতাহত শিক্ষার্থীরা শুধু নয়, যাঁরা এ ঘটনা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন, এমনকি যাঁরা টিভিতে দেখেছেন বা শুনেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই কিন্তু একধরনের ঝুঁকির মধ্যে আছেন। বিশেষত যাঁদের চাপ মোকাবিলা করার ক্ষমতা কম বা মানসিকভাবে কিছুটা নাজুক বা উদ্বেগপ্রবণ, তাঁদের এ ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
তবে বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন—
· যাঁরা সরাসরি এ ঘটনায় আহত হয়েছেন
· যাঁদের সন্তান মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন
· যাঁদের বন্ধুবান্ধব বা ভাইবোন মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন
· যাঁরা সরাসরি এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন বা মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষার্থীরা, শিক্ষক, স্টাফ
· যাঁরা মানসিকভাবে নাজুক বা উদ্বেগপ্রবণ
কীভাবে আপনার শিশুকে বের করবেন এই ভয়াবহ ট্রমা থেকে
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি–সংক্রান্ত খবর, ছবি, ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে সীমানা নির্ধারণ করুন
এ ধরনের ঘটনা অতিরিক্ত দেখলে মনের মধ্যে চাপ তৈরি হয় এবং এককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়। কাজেই অভিভাবকেরা নিজেরা বা শিশুদের এসব খবর দেখার ক্ষেত্রে সীমারেখা টানুন। দুর্ঘটনার ভয়াবহ দৃশ্য শিশু–কিশোরদের দেখতে নিরুৎসাহিত করুন। বীভৎস কোনো কিছু প্রত্যক্ষ করা থেকে শিশুকে বিরত রাখুন।
শিশুর সঙ্গে গুণগত সময় কাটান, তাদের মনের কথা শুনুন
যে অভিজ্ঞতা আমাদের মৃত্যুর সন্নিকটে নিয়ে যায়, সেসব ঘটনা আমাদের একধরনের নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিরাপত্তাহীনতা বোধ হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি। কাজেই এ সময়ে তাদের মনের মধ্যে কী চলছে, সেটা প্রকাশ করতে দিন। তাদের কথা অযৌক্তিক মনে করে উড়িয়ে না দিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাকে আশ্বস্ত করুন, গুণগত সময় কাটান। অর্থাৎ যে সময়টা তাদের দিচ্ছেন সে সময়টায় শিশু যেন নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান মনে করে।
· তার সঙ্গে প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় কাটান, তার কথা শুনুন, গল্প করুন, খেলা করুন
· তার সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আপনি অন্য কাজ থেকে বিরত থাকুন। তাকে এই অনুভব দিন, এ সময়টা শুধুই তার
· চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন, তার মনের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন
· তার মনের ভীতি তার মতো করে সম্পূর্ণ প্রকাশ করতে দিন
শিশুদের ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনুন
প্রথম দিকে এ ধরনের ধাক্কা সামলাতে বাচ্চাদের কিছুটা সময় লাগতে পারে। অনেকের মধ্যেই স্কুলে না যেতে চাওয়া, পড়ালেখায় অমনোযোগ, খাওয়া কমিয়ে দেওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। যদি মনে করেন, শিশু স্বাভাবিক কাজ করার মতো বা আবার স্কুলে যাওয়ার মতো নিজের মনকে তৈরি করতে পারেনি, শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তবে সময় নিন। জোর করবেন না। তাকে স্বাভাবিক আচরণ করতে উৎসাহিত করুন। দুই–এক দিন স্কুলে না যেতে চাইলে সেটাকে গ্রহণ করুন। কিন্তু স্কুলে না যাওয়া যেন দীর্ঘায়িত না হয়। ধীরে ধীরে সন্তানকে স্বাভাবিক কাজে অর্থাৎ স্কুলে যাওয়া, পড়ালেখা শুরু করা ইত্যাদিতে ফিরিয়ে আনুন।
ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবার–পরিজনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শিশুদের উৎসাহ দিন
দুর্ঘটনায় যারা আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সুযোগ থাকলে এবং ঝুঁকি না থাকলে সেসব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শিশুদের উৎসাহ দিন। মাইলস্টোনের যেসব শিশু মারা গেছে, তাদের শেষকৃত্যে সহপাঠীদের অংশগ্রহণ করতে দিন। আহত শিশু ও শিক্ষকদের পরিবার–স্বজনদের খোঁজ নিন, প্রয়োজনে তাদের বাসায় যান।
মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা
এ ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য নির্ধারণে মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বীভৎস দৃশ্য, পোড়া দেহ, মৃতদেহের ছবি, আহত মানুষের কাতরানোর দৃশ্য, বিমান ক্রাশের দৃশ্য বারবার দেখানো থেকে বিরত থাকা উচিত। নাজুক মনে এসব দৃশ্যের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আছে।
অভিভাবকেরা নিজেরা কীভাবে ট্রমা কাটিয়ে উঠবেন
যেকোনো ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য অন্যতম সহায়ক অন্যের মানসিক সহায়তা। এ ক্ষেত্রে প্রিয়জনের সংস্পর্শ, সংযোগ, যূথবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই। মনের মধ্যে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটা অন্যের কাছে প্রকাশ করুন, সম্ভব হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে যান, দুর্ঘটনাসংক্রান্ত খবর দেখার ক্ষেত্রে সীমারেখা টানুন। দুর্ঘটনাসংক্রান্ত দৃশ্য কম দেখুন। যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় দ্রুত ফিরে আসুন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ান, তাদের মানসিক সহায়তা দিন। উদ্বেগের শারীরিক উপসর্গ (যেমন শরীর জ্বালাপোড়া, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় ইত্যাদি) হলে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।
শেষকথা
মানসিক চাপ মোকাবিলার অন্যতম নির্ধারক মানসিক শক্তি। আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা, সহমর্মিতা এই মানসিক শক্তির অন্যতম উৎস। ২২ জুলাই, ২০২৫–এর মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশের বুক খালি করে যারা চলে গেছে বা যারা আহত হয়েছে, শুধু তারা বা তাদের পরিবারই যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নয়। এ ক্ষতি আমাদের সবার। আগুনে ঝলসানো শরীরের পোড়া ক্ষত বাংলাদেশের হৃদয়ে।