আসক্ত ব্যক্তি বুঝতেও পারে না যে, সে তার জীবনের মূল্যবান সময় কীভাবে নষ্ট করছে

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার আতিক।

প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন অনলাইনে মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২০২৫ সালের ২৫ মে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার আতিক। তিনি ‘প্রযুক্তি আসক্তির ভয়াবহতা: অভিভাবকের সচেতনতা’—এই বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন। উক্ত আলোচনা থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।

আমরা যখন গেম খেলি বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করি, তখন তো আমরা সেই জগতের মধ্যে আটকে যাই। নিজের রুটিন যে নষ্ট হচ্ছে, সেটা একজন আসক্ত ব্যক্তি কীভাবে বুঝবে? তার সচেতনতা তৈরি হবে কী করে? এর উত্তরে ডা. সরদার আতিক বলেণ, ‘এখানে একটি বড় সমস্যা আছে। আগেকার দিনে নেশার জন্য মানুষকে কোথাও যেতে হতো, যেমন তাসের আড্ডা বা নির্দিষ্ট কোনো স্থান। কিন্তু প্রযুক্তি এখন আমাদের পকেটে থাকে। আপনি একটা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ দেখতে ফোন হাতে নিলেন, সেখান থেকে স্ক্রল করতে করতে ইউটিউবের একটি ভিডিওতে ঢুকলেন এবং তারপর একের পর এক ভিডিও দেখতে থাকলেন। এই প্রক্রিয়াকে আমি বলি ‘ব্রাঞ্চিং’। এই ব্রাঞ্চিং হতে হতে মানুষ তার মূল কাজ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে যায়। আমি একটু আগে নাস্তা করতে গিয়ে একটি দোকানে একজন কর্মীকে দেখলাম। সে ফোন স্ক্রল করতে এতটাই ব্যস্ত ছিল যে, আমি খাবার চাইলে সে আমাকে অদ্ভূত প্রশ্ন করল। তার মন তখন ফোনের ভেতরে, বাস্তবে নেই। এই যে নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলা, এটাই হলো অসচেতনতার প্রথম ধাপ। আসক্ত ব্যক্তি বুঝতেও পারে না যে সে তার জীবনের মূল্যবান সময় কীভাবে নষ্ট করছে।