রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ লক্ষীপুর গ্রামের মেয়ে সাদিয়া আক্তার সিমীম। অভাবের সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী তাঁর বাবা। বাড়ি ভিটা ও ৩০ শতক আবাদি জমি ছাড়া কিছু নেই তাদের। এই অল্প জমিতে আবাদ করে কোনো রকমে ৬ সদস্যের সংসার চললেও সাদিয়াদের তিন ভাই বোনের লেখাপড়া খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই নিজের পড়ার খরচ জোগাতে টিউশনি করেছে সাদিয়া আক্তার। এভাবে ২০২২ এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে ইকরচালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। কিন্তু তবু সাদিয়ার মুখে হাসি ছিল না। কারণ উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার খরচ কীভাবে আসবে সেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
সেই সময়টাতে সাদিয়ার পড়াশোনার দায়িত্ব নেয় ব্র্যাক ব্যাংক ও প্রথম আলো ট্রাস্টের ‘অপরাজেয় তারা’ শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প। এই শিক্ষাবৃত্তির সহায়তায় পড়াশোনা করে ২০২৪ সালে এইচএসসিতে সাফল্য ধরে রেখেছেন সাদিয়া। তিনি গত বছর অনুষ্ঠেয় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় রংপুরের সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্য ধরে রেখেছেন। ধারাবাহিক এই সাফল্যের জন্য স্নাতক পর্যায়েও তাঁকে ‘অপরাজেয় তারা’ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হবে।
সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘নিজে কখনো প্রাইভেট পড়তে পারিনি। বাবার একার আয়ে ৬ জনের সংসার চালাতেই খুব কষ্ট হতো। তাই লেখাপড়ার খরচ চালাতে পাড়ার শিশুদের পড়িয়েছি। ভালো ফল করেছি। কিন্তু শহরে কোনো একটা ভালো কলেজে ভর্তি হব কীভাবে, পড়াশোনা চালাব কীভাবে—এটা নিয়ে সংশয় ছিল। ওই সময়টাতে প্রথম আলো ট্রাস্ট ও ব্র্যাক ব্যাংক পাশে দাঁড়িয়েছে। এটা আমার জন্য বিরাট পাওয়া। তা না হলে হয়তো পড়াশোনা চালানো কঠিন হয়ে যেত। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছি। আশা করি ভালো কিছু হবে। আমার স্বপ্ন লেখাপড়া শেষ করে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার।’