নতুন সূর্যের আলোয় শিক্ষাঙ্গনে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব

রং-রূপের অপরূপ আমেজে রাজশাহীর আলোর পাঠশালায় বৈশাখী উৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে।

রং-রূপের অপরূপ আমেজে রাজশাহীর আলোর পাঠশালায় বৈশাখী উৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তির দিন সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ উদ্যোগে সাজসজ্জার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা নিজেদের সৃজনশীলতায় তৈরি করে বাঁশের কুলা, চালনি, মাটির হাঁড়ি, কাগজের নকশা ও আলপনা। ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন বর্ষকে বরণ করতে তাদের ছিল প্রবল উৎসাহ ও আনন্দ।

চৈত্র সংক্রান্তি পেরিয়ে নতুন সূর্যের আলোয় শুরু হয় বাংলা নববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা। ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা ৩০মিনিটে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পাঠ্যবই পড়ে ও শিক্ষকদের কাছে শোনা বৈশাখের ঐতিহ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে শিক্ষার্থীরা ছিল উচ্ছ্বসিত। নিজেদের তৈরি রঙিন মাটির হাঁড়ি, বাঁশের কুলা, চালনি, কাগজের নকশা, পাখির মুখোশসহ নানা উপকরণ নিয়ে তারা অংশ নেয় শোভাযাত্রায়।

রং-রূপের অপরূপ আমেজে রাজশাহীর আলোর পাঠশালায় বৈশাখী উৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি নদীর পাড়ের শতবর্ষী বটগাছের নিচে গিয়ে শেষ হয়। তারা মনেকরে এটিই তাদের রমনার বটমূল! সেখান থেকে পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরে শুরু হয় পান্তা উৎসব। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা এক সঙ্গে পান্তা-ইলিশ উপভোগের মাধ্যমে বৈশাখের ঐতিহ্যকে ধারণ করে। আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে এ আয়োজন উপভোগ করে।

পয়লা বৈশাখে সকলে মিলে পান্তা ইলিশ খাওয়া হয়।

পান্তা উৎসবের পর শিক্ষার্থীরা একে অপরকে আলপনায় রাঙিয়ে তোলে, যা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর স্বল্প বিরতির পর শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব—সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করে।

নাচে-গানে মুখরিত এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ও সকলের প্রতি শুভ কামনার মাধ্যমে বর্ষবরণ উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।