রাজশাহীর প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি ছোট গ্রাম চরখানপুর। শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা যেখানে খুবই সীমিত, সেই গ্রাম থেকেই উঠে আসা এক তরুণের নাম মামুনুর রশিদ। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তার এলাকায় শিক্ষার আলো খুবই কম। তাই তখন থেকেই তার মনে একটি স্বপ্ন জন্ম নেয়—ভালোভাবে পড়াশোনা করে একদিন নিজের এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবেন।
মামুনুর রশিদ পড়াশোনা করেছেন রাজশাহী আলোর পাঠশালা থেকে। স্কুলজীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও পরিশ্রমী। কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৭২ এবং এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তাঁর এই সাফল্যের পেছনে বড় অবদান রয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্টের। এই প্রতিষ্ঠান তাঁকে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ করে দেয় এবং তার স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা জোগায়।
বর্তমানে মামুনুর রশিদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ রাজশাহী সিটি কলেজে অর্থনীতি বিভাগে অনার্সে পড়াশোনা করছেন। পরিবারের অন্যান্য ভাই-বোনেরা ইতিমধ্যে নিজ নিজ জীবনে প্রতিষ্ঠিত ও বিবাহিত। কিন্তু মামুন তাঁর পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।
স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়াতেন। এখনও তিনি তার নিজ এলাকায় একটি মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, গণিত ও ইংরেজি পড়িয়ে থাকেন। তাঁর বিশ্বাস, শিক্ষাই পারে সমাজকে পরিবর্তন করতে। তাই নিজের এলাকার শিশু-কিশোরদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়াই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য।
মামুনুর রশিদের জীবন সংগ্রামেরও কমতি নেই। নদীর ওপার থেকে প্রতিদিন পড়তে আসা সেই ছেলেটি নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পরিবারের সঙ্গে জমিতে কাজ করেন। নিজের পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে তিনি এগিয়ে চলেছেন তার স্বপ্নের পথে।
তার জীবনের এই পথচলায় তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁর অতীতের শিক্ষকদের প্রতি, রাজশাহী আলোর পাঠশালা এবং প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি। তাদের সহায়তা ও অনুপ্রেরণাই তাঁকে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যতে মামুনুর রশিদের একটাই স্বপ্ন—একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়া এবং নিজের এলাকাকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তোলা। নদীর ওপার থেকে পড়তে আসা সেই ছেলেটির এই স্বপ্ন একদিন বাস্তবে রূপ নেবে—এমন আশাই করেন তার শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকার মানুষ।