মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চায় চরের আলোর পাঠশালার তহমিনা

প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী তহমিনা আক্তার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে চায়।

নানা সংকট আর চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠেও সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে এক কিশোরী। তার নাম তহমিনা আক্তার। সে কুড়িগ্রামের দুর্গম চর কুমরেরবসের বাসিন্দা এবং স্থানীয় প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। নিজের জীবনের উন্নতির চেয়েও সমাজকে সুন্দর ও মানবিক করে গড়ে তোলাই এখন তার জীবনের মূল লক্ষ্য। বড় হয়ে একজন একনিষ্ঠ মানবাধিকার কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তহমিনা।

চর কুমরেরবস এলাকার দরিদ্র বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের তিন সন্তানের মধ্যে তহমিনা মেজ। চরম অভাব-অনটনের সংসারে খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের কষ্ট সে ছোটবেলা থেকেই কাছ থেকে দেখেছে। চরের এই প্রতিকূল পরিবেশেও পড়াশোনার প্রতি তহমিনার রয়েছে তীব্র অনুরাগ। তার বিনম্র আচরণ ও মেধার কারণে সে চরের আলোর পাঠশালার শিক্ষক এবং সহপাঠীদের কাছে ভীষণ প্রিয়। পাঠশালার আনন্দঘন পরিবেশ এবং শিক্ষকদের অকুণ্ঠ সহযোগিতা তার এই পড়াশোনার পথকে আরও মসৃণ করে তুলেছে। সমাজের বিত্তবান ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যকার তীব্র বৈষম্য তহমিনাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। সে প্রতিনিয়ত দেখে, সমাজের বিত্তশালীরা যখন নিজেদের আরাম-আয়েশ, শিক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যস্ত, তখন অন্যপাশে অসংখ্য মানুষ দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্য লড়াই করছে। মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে চিকিৎসা ছাড়াই মারা যাচ্ছে অনেকে।

নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে তহমিনা বলে,' শিক্ষা কেবল নিজের জীবন পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং সমাজকে সুন্দর করার মাধ্যম। প্রথম আলো ট্রাস্ট যেভাবে আমাদের চরের অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে আলোর দিশা দেখিয়েছে, আমিও ঠিক সেভাবে বড় হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে চাই।' মেয়ের এমন মানবিক স্বপ্নে গর্বিত তহমিনারা বাবা-মাও। তারাও চান তহমিনা বড় হয়ে সমাজের একজন আদর্শ মানুষ হোক।