বেদে কন্যা রেখার স্বপ্ন কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করার

মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রেখা খাতুন।

লক্ষ্মীপুর জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে দুই ব্রিজের মধ্যখানে মেঘনা নদীর তীরে নোঙর করা নৌকায় বসবাস করেন মো. হারুনের পরিবার। তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে রেখা আক্তার সবচেয়ে ছোট। সে মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালাতে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। যাযাবর জীবনের এক অনিশ্চয়তার মধ্যেও রেখা আক্তার দেখে এক অন্যরকম স্বপ্ন। তারা জীবনের অধিকাংশ সময় নৌকায় ভেসে বেড়ায়। তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আবেগ-অনুভূতি, জন্ম-মৃত্যু এবং বিয়ে সবকিছু জড়িয়ে থাকে নৌকা ও নদীকে কেন্দ্র করে। জোয়ার ভাটাকে জড়িয়ে তাদের জীবনের গল্প। ঘাটে ঘাটে নোঙর ফেলা আবার নোঙর তুলে অন্যত্র চলে যাওয়া তাদের প্রতিদিনের চিত্র। তারা নাগরিক জীবনের অধিকাংশ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বেদে সম্প্রদায়ের প্রায় ৯৮ শতাংশ সদস্য দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করে।

বেদে সম্প্রদায়ের সাধারণ জীবন থেকে বেরিয়ে এসে নিয়মিত স্কুলে যায় রেখা। বাবা মো. হারুন নদীতে মাছ ধরে সংসার চালান। তার মা কালোনি বেগম দীর্ঘদিন হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত। তাদের অভাব থাকলেও রেখাকে পড়াতে আগ্রহী তাঁরা। এদিকে রেখা মনে করে, প্রযুক্তির এ যুগে কম্পিউটার শেখার মাধ্যমেই নিজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারবে। সে প্রথমবার পাশের বাজারে এক দোকানে কম্পিউটার দেখে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিল। সে দেখছিল কিভাবে মানুষ আঙুলের ইশারায় বড় বড় কাজ করে ফেলছে। তখন তার মনেও এই যন্ত্রটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেখান থেকেই কম্পিউটার নিয়ে নিজের স্বপ্ন বুনতে থাকে। ভবিষ্যতে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করার ইচ্ছে তার।

রেখা শুধু নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চায় না। সে চায় তার মতো অন্যান্য বেদে শিশুদের কাছে উদাহরণ হতে। সে চায় ভালো করে পড়াশোনা করে চাকরি করবে এবং নৌকার অনিশ্চিত জীবন থেকে বেরিয়ে সাধারণ জীবনযাপন করবে। তার স্বপ্ন পূরণ হোক এবং পৌঁছে যাক কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।