নতুন স্কুল ড্রেস পেয়ে উচ্ছ্বসিত বেদে সম্প্রদায়ের শিশুরা

নতুন স্কুল ড্রেস পেয়ে আনন্দে আত্নহারা মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা।

নদীর অবাধ্য ঢেউ, ভাঙন আর যাযাবর জীবনের কঠিন বাস্তবতা যাদের নিত্যসঙ্গী, সেই অবহেলিত বেদে সম্প্রদায় ও জেলে পল্লীর শিশুদের চোখে ছিল এক অপার্থিব আনন্দের অশ্রু। গত ৫ জুলাই রোববার লক্ষ্মীপুরের প্রান্তিক শিশুদের স্বপ্নের বাতিঘর মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালা সাক্ষী হলো এক আবেগঘন মুহূর্তের। সমাজে যারা সবসময় পেছনে পড়ে থাকে, সেই বেদে পরিবারের সন্তান ও স্কুলের সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ভালোবাসার অনন্য উপহার হিসেবে সকল শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হলো চমৎকার নতুন স্কুল ড্রেস।

নতুন স্কুল ড্রেস পেয়ে আনন্দিত মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা।

উপহারের নতুন পোশাক বুকে জড়িয়ে যখন বেদে পল্লীর ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা গলায় টাই ম্যাচিং করছিল, তখন তাদের চোখের কোণে ফুটে উঠেছিল এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস। যে শিশুরা একদিন সমাজের অবহেলা আর মলিন পোশাকে নিজেকে লুকিয়ে রাখত, এখন তারা সবাই একই পোশাকে গলায় টাই বেঁধে ক্লাসরুমে পাশাপাশি বসবে। এই ড্রেস আর টাই কেবল কাপড়ের টুকরো নয়, এটি এই অবহেলিত শিশুদের বুক ফুলিয়ে বাঁচার অধিকার এবং বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্নের ডানা।

নতুন স্কুল ড্রেস পেয়ে আনন্দিত মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীরা।

এদিন সন্তানদের এমন রূপ দেখে বেদে মায়েদের চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার জল, আর শিশুদের কণ্ঠে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। সমাজের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন এই মানুষগুলোর সন্তানদের অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরিয়ে আনার এই দূরদর্শী উদ্যোগের জন্য প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালা পরিবার অসংখ্য ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।