পারিবারিক ইচ্ছা আর ধর্মীয় শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক শিক্ষায় নিজেকে আলোকিত করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মোহাম্মদ রাসেল। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সে এখন মদনপুর আলোর পাঠশালার ৭ম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। রাসেল মদনপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সিরাজ বেপারী ও বিবি শাহিদা বেগমের ৮ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। মা-বাবার ইচ্ছা ছিল তাকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে একজন আলেম বানানো। সেই লক্ষ্যে তাকে দেশের একটি বিখ্যাত হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তিও করা হয়। সেখানে রাসেল অত্যন্ত সুনামের সাথে পবিত্র কোরআনের ১৫ পারা মুখস্ত করে। তবে ১৫ পারা শেষ করার পর রাসেলের মনের ভেতরে এক অন্যরকম স্বপ্নের জন্ম নেয়। সে অনুভব করে, কেবল ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করতে চায় সে। কিন্তু তার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে পরিবার থেকে তীব্র বাঁধা আসে। শুরু হয় নানামুখী পারিবারিক মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। রাসেলও তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। একপর্যায়ে তার পড়াশোনা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
রাসেলের এই অদম্য ইচ্ছার কথা জানতে পেরে আলোর পাঠশালার শিক্ষক প্রতিনিধি রাসেলের বাড়িতে যান এবং তার মা-বাবাকে বোঝাতে সক্ষম হন। তিনি রাসেলের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তানের মন যেদিকে টানে, তাকে সেদিকেই শিক্ষার সুযোগ দেওয়া উচিত। শিক্ষকের এই আন্তরিক বোঝানোর পর রাসেলের মা-বাবা তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন এবং রাসেলকে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত করার ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতা শুরু করেন। বর্তমানে সব বাধা পেরিয়ে রাসেল নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে। তার এই পরিবর্তনের গল্প এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। রাসেল জানায়, সে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে চায় এবং দেশ ও সাধারণ জনগণের সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চায়।