গুড়িহারী গ্রামে আলোর পাঠশালার পাঠাগার

পাঠাগারের সামনে বসে বই পড়ছে গ্রামের শিশু-কিশোরেরা।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সদর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে গুড়িহারী গ্রাম। গ্রামটির ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে ঢুকেছে একটি সড়ক। সেই সড়কের ধারে চোখে পড়ে একটি নামফলক। সেটির কোনায় একজন তরুণের ছবি। পাশে একটি স্লোগান ‘বন্ধুত্ব-ত্যাগ-দেশপ্রেম’। নিচে বড় হরফে লেখা ‘ফারাজ স্মৃতি পাঠাগার’। পাঠাগারটি গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর জন্য করা হয়েছে। টিনশেড ঘর, ঘরের দেওয়াল মাটি দিয়ে তৈরি এবং মেঝে পাকা। ঘরের মাঝখানে একটি বড় টেবিল পাতানো রয়েছে। টেবিলের চারপাশ দিয়ে বেঞ্চ পাতানো। টেবিলের ওপরে প্রতিদিনের খবরের কাগজ রাখা। স্টীলের তাকে সাজানো রয়েছে বই। প্রতিদিন বিকেলে এই মাটির ঘরের সামনে গ্রামের শিশু-কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সবাই পড়তে আসেন বই। তা ছাড়া এলাকার বিভিন্ন লোকজনও মাঝে মাঝে আসেন বই পড়তে। পাঠাগারটি গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা পরিচালনা করছে ।

গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার সহকারী শিক্ষক জুয়েল রানা বলেন, ‘লাইব্রেরীতে প্রায় ১০০০ (এক হাজার) বই রয়েছে। যেমন রয়েছে নজরুল রচনাবলী, বাংলাপিডিয়া তেমনি রয়েছে রবীন্দ্র রচনাবলী। এ ছাড়াও অনেক লেখকের মজার মজার বই রয়েছে। এখানে বিদ্যালয়ের ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা বই পড়ে। বিকেলে বা রাতে গ্রামের বা বিভিন্ন এলাকার লোকজনও বই পড়তে আসেন।' পাঠাগারে ঢাকার কিছু মহান শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি প্রায় ২০০ টি বই দান করেছেন।

পাঠাগারের ভেতরে বসে বই পড়ছে অনেকেই।

পাঠাগার তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা প্রধান শিক্ষক মো. নূর আলম বলেন, ‘গুড়িহারী গ্রামের সন্তান মো. মাসুদ রানা এই উদ্যোগ নেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী শহরে বসবাস করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা মো. মাসুদ রানা তাঁর নিজের গ্রামকে ভুলে যাননি। পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া গ্রামটিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পাঠগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তাঁর এই উদ্যোগে গ্রামের লোকজন নিজেরাই ঝাড় থেকে বাঁশ কেটে দিয়েছেন। স্বেচ্ছাশ্রমে মাটির ঘর তৈরি করেছেন। পাঠাগারের জমি দান করেছেন মাসুদ রানার নিকট আত্মীয় মো. সাইফুদ্দীন।'

পাঠাগারটির উদ্যোক্তা মাসুদ রানা বললেন, 'যখন পরিবারে, সমাজে মানুষ দিনে দিনে বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে, সেই সময়ে ফারাজের মত একজন তরুণ নিজের জীবন দিয়ে বন্ধুত্বের মর্যাদা রক্ষা করলেন- একথা ভাবতে গেলেই আমার চোখে জল এসে যায়। তাঁকে মানুষের মধ্যে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কী করা যায়, ভাবতে গিয়েই মাথায় এই পাঠাগার করার চিন্তা আসে। কারণ, ফরাজের আত্মদানের ঘটনাটা ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল আমায়।'

উল্লেখ্য, গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালাসহ সারা দেশে মোট ৬টি স্কুল পরিচালনা করছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। সরকার বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ করছে। সামিট গ্রুপের সহযোগিতায় স্কুলে বিনা মূল্যে পড়াসহ নানা ব্যবস্থা করেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।