অভাব জয় করে ডাক্তার হতে চায় আলোর পাঠশালার বিথী

গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী বিথী খাতুন ডাক্তার হতে চায়।

চিকিৎসার অভাবে অকালেই চলে গেছেন মা। বাবাও নিয়েছেন নতুন সংসার, খোঁজ রাখেন না জমজ দুই ভাই-বোনের। কিন্তু সব প্রতিকূলতা আর চরম দারিদ্র্যকে জয় করে এগিয়ে চলেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার অজপাড়াগাঁয়ের এক কিশোরী।

বিথী খাতুন বর্তমানে গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে গুড়িহারী শালবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর, ২০২৫ সালে সে আলোর পাঠশালায় ভর্তি হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিথীর বাবার বাড়ি গোমস্তাপুর থানার এনায়েতপুর গ্রামে। তবে মা রানী বেগম ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে বিথী ও তার জমজ ভাই টিকরামপুর গ্রামে নানা-নানীর আশ্রয়ে বড় হচ্ছে। বাবা মো: রকিবুল ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে করে নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় দুই সন্তানের কোনো খরচ বহন করেন না।

ভূমিহীন নানার সংসারে নানীই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কঠোর পরিশ্রম করে হাঁস-মুরগি পালন ও তা বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চালান তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি বিথীর ভাইও অন্যের জমিতে দিনমজুর (কামলা) হিসেবে কাজ করে পরিবারে কিছুটা জোগান দেয়। চরম অভাবের এই সংসারে বিথীর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া একসময় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। তবে আশার আলো দেখায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালা। বিথীর নানী বলেন, ' আমি গরীব মানুষ, খেটে খাই। নাতি-নাতনির খাওয়ার খরচের পর লেখাপড়ার খরচ চালানো আমার জন্য অনেক কষ্টকর। গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালায় লেখাপড়া করতে কোনো টাকা লাগে না বলেই আজ আমার নাতনী পড়তে পারছে।' তিনি আরও বলেন, আমার নাতনী বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। আমাদের পাশে থাকার জন্য প্রথম আলো ট্রাস্টের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

লেখাপড়ায় ভালো হওয়ার পাশাপাশি বিথীর রয়েছে চমৎকার সৃজনশীল প্রতিভা। ছোটবেলা থেকেই সে আঁকাআঁকি করতে ভালোবাসে। অবসরে খাতা-কলম নিয়ে এঁকে ফেলে গ্রামের দৃশ্য, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ কিংবা জাতীয় ফুল শাপলার মতো মনোরম সব ছবি।

নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে বিথী বলে, আমার মা অল্প বয়সে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। সেই কষ্ট আমি ভুলতে পারি না। তাই আমি মন দিয়ে লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হতে চাই। ডাক্তার হয়ে আমার মতো গরীব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিনামূল্যে সেবা করতে চাই। অজপাড়াগাঁয়ের চরম প্রতিকূলতার মাঝেও বিথীর এই অদম্য পথচলা ও বড় হওয়ার স্বপ্ন সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণা।