রাজশাহী আলোর পাঠশালায় বিশ্ব মা দিবস পালন করা হয়েছে

রাজশাহী আলোর পাঠশালায় বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে ১০ মে মায়েদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার এক আবেগঘন আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী আলোর পাঠশালার পক্ষ থেকে গতকাল ১০ মে মায়েদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার এক আবেগঘন আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের মায়েদের প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় নানা অনুভূতিময় কথা, সম্মানসূচক কার্যক্রম এবং আন্তরিক উপস্থাপনার মাধ্যমে। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মায়েরা উপস্থিত থেকে তাঁদের অনুভূতি জানান ও সন্তানদের থেকে তাঁদের মায়েদের সম্পর্কেও নানা বিষয় শোনেন।

শিক্ষার্থীরা তাঁদের মাকে নিয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ' মা, তুমি আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক, আমার প্রথম বন্ধু। তোমার ভালোবাসা, ত্যাগ ও যত্নের জন্য আজ আমি কৃতজ্ঞ। তুমি যেমন আমাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেছ, তেমনই প্রতিটি পদক্ষেপে আমার পাশে থেকেছ।' এরপর আব্রাহাম লিংকন-এর বিখ্যাত উক্তি— ' যার মা আছে, সে কখনোই গরিব নয়' উল্লেখ করে মায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে তাদের নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিহির হোসেন বাঁধনের মা মোসা. বেলী বেগম বলেন, ' সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে পারাই একজন মায়ের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। আমি দারিদ্র্যের মধ্য দিয়েও আমার বড় সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে পাঠিয়েছি। এখন আমার ছোট সন্তানকে নিয়েও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি, যেন কোনোদিন নিজের কাছে দোষী না হই যে আমি চেষ্টা করিনি।' সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তারের মা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ' আমার তিনটি মেয়ে। আমি সবসময় চেয়েছি ওদের শিক্ষিত করতে। দুই মেয়েকে শিক্ষিত করতে পারিনি, তাই এখন আমার সব আশা-ভরসা সাদিয়াকে ঘিরে। আমি চাই সে মানুষ হোক, নিজের পায়ে দাঁড়াক।'

শিক্ষার্থীরা নিজ মায়েদের সম্মান জানায় এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।

শিক্ষার্থীরাও তাদের মায়েদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কথা প্রকাশ করে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. জেসমিন খাতুন বলেন, আমার মা-ই আমার পৃথিবী। আমার বাবা নেই। মা আমার বাবা ও মা দুজনই। মা আমার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমি লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল, যখন শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে মায়েদের পা ধুয়ে মুছে দেয় এবং ফুল দিয়ে বলে— ' মা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।' এ সময় পুরো পরিবেশ আবেগ ও ভালোবাসায় ভরে ওঠে। বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মাঝে মায়ের প্রতি সম্মান, দায়িত্ববোধ ও কৃতজ্ঞতার চেতনা আরও গভীর করে তোলে। পরিশেষে বিশ্বের সকল মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।