অভাব, কষ্ট আর নানা প্রতিকূলতার মাঝেও হার মানেনি এক গ্রামীণ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। সমাজের বাধা পেরিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক নীরব সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে টেকনাফ উপজেলার কিশোর শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম। দমদমিয়া আলোর পাঠশালার চতুর্থ শ্রেণীর এই ছাত্র প্রতিদিন প্রায় চার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে আসে। তার একটাই লক্ষ্য—পড়াশোনা করে মানুষ হওয়া।
সাইফুল ইসলামের বাড়ি কেরুনতলী গ্রামে। তার বাবা আব্দুল শুক্কুর একজন সাধারণ কৃষক এবং মা খুরশিদা বেগম গৃহিণী। কৃষিকাজের সামান্য আয়ে চলে তাদের ছয় সংসার। পরিবারকে প্রতিনিয়ত অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তৃতীয়। বর্ষায় কাদা, শীতে কুয়াশা আর গ্রীষ্মের প্রখর রোদ— সব ঋতুতেই সাইফুলের কাঁচা রাস্তা ধরে চার কিলোমিটার দূরের স্কুলে যাওয়া একরকম যুদ্ধের মতো। কখনও কখনও খালি পেটেও তাকে পথ চলতে হয়, তবুও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহে এতটুকু ভাটা পড়েনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী রাজেশ কুমার কানু বলেন, ' সাইফুলের চোখে আমরা স্বপ্ন দেখতে পাই। সামান্য সহায়তা পেলে সে অনেক দূর যেতে পারবে।' সাইফুলের বাবা আব্দুল শুক্কুর অভাব-অনটন সত্ত্বেও ছেলের পড়াশোনা বন্ধ করতে চান না। মা খুরশিদা বেগমও চান, তাদের ছেলে লেখাপড়া শিখে একদিন পরিবারের দুঃখ দূর করবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এমন শিক্ষার্থীদের পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে তারা ভবিষ্যতে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারবে। সামান্য সহযোগিতা, যেমন শিক্ষার উপকরণ, যাতায়াত সহায়তা বা পুষ্টিকর খাবার একজন সাইফুলের জীবন বদলে দিতে পারে। সাইফুল ইসলাম শুধু একজন ছাত্র নয়, সে যেন এক অনুপ্রেরণার নাম।