অভাবের সংসার, নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা। কিন্তু ফুটবল মাঠের সবুজ ঘাসে পা রাখলেই সব কষ্ট ভুলে যায় কিশোরী ফুলকলি ত্রিপুরা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে সে দেখতে শুরু করেছে এক বড় স্বপ্ন—একদিন খেলবে বাংলাদেশের জাতীয় নারী ফুটবল দলে, দেশের হয়ে ওড়াবে লাল-সবুজের পতাকা।
ফুলকলি ত্রিপুরা প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। তার বাবা পেশায় একজন দিনমজুর। তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে যেখানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই কঠিন, সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ ফুলকলির স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সে শুধু মাঠেই নয়, ক্লাসেও সেরা। গত বছর ষষ্ঠ শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় দারুণ ফলাফল করে সে সপ্তম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে।
ছোটবেলা থেকেই স্কুল মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে ভালোবাসে ফুলকলি। প্রতিদিন স্কুল শেষে খালি পায়েই শুরু হয় তার ফুটবল অনুশীলন। স্কুলের আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতায় তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নিজের স্বপ্ন নিয়ে ফুলকলি জানায়, দারিদ্র্য বা কোনো প্রতিকূলতাই তার ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছাকে থামাতে পারবে না। সে বলে, ‘আমি কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বাস করি। আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো একদিন জাতীয় দলে খেলে দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা এবং আমার পরিবার ও স্কুলের সুনাম বয়ে আনা।’
ফুলকলি পড়াশোনা ও খেলাধুলা—দুটি ক্ষেত্রেই অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তার এই অদম্য পথচলা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা।