লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলের অবহেলিত বেদে ও জেলে পল্লীর শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন এর দায়িত্ব নিয়েছে প্রথম আলো ট্রাস্ট। ২০২৫ সালের ১লা জুন থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত আলোর পাঠশালার অধীনে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার নতুন নামকরণ করা হয়েছে মেঘনাপাড় ধীবর আলোর পাঠশালা।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ২০নং চর রমণী মোহন ইউনিয়নে ২০০৮ সালে মেঘনা নদীর তীরে এই অনন্য পাঠশালার যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষানুরাগী অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া এবং স্থানীয় ব্যক্তিত্ব সোহরাব মাঝির যৌথ প্রচেষ্টায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল সমাজের মূল স্রোত থেকে পিছিয়ে পড়া যাযাবর বেদে এবং চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করা জেলে পরিবারের সন্তানদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করা। কোনো বড় প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান ছাড়াই, দীর্ঘ ১৭ বছর (২০০৮-২০২৫) স্কুলটি চরম আর্থিক অনটন ও পরিকাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত অর্থায়ন, তাঁর কয়েকজন সুহৃদ এবং বিশিষ্ট দানবীর ডা. আশফাকুর রহমান মামুনের সহায়তায় ঝড়-তুফান ও বন্যা উপেক্ষা করে স্কুলটির শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা হয়।
প্রথম আলো ট্রাস্ট ২০২৫ সালের ১ জুন স্কুলটির দায়িত্ব নেওয়ার পর এর অবকাঠামো ও শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এখন আধুনিক ও উন্নত শিক্ষার পথ সুগম হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। যেখানে দুবেলা অন্ন সংস্থান করাই ছিল কঠিন, সেখানে আজ এই আলোর পাঠশালার কল্যাণে শত শত শিশু বর্ণমালা শিখছে এবং বড় মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এই মানবিক উদ্যোগের ফলে উপকূলীয় চরাঞ্চলে শিক্ষার এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি রোল মডেল।