ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম ইমরান হোসেনের। পিতা বিল্লাল মাঝি ও মাতা মাইনুর বেগমের সংসারে এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইমরান বড়। দারিদ্র্য যেন জন্মের সঙ্গেই তাকে সঙ্গী করে নিয়েছিল। নিত্যদিনের অভাব-অনটন, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মাঝেও ছোট্ট ইমরানের চোখে ছিল এক বড় স্বপ্ন পড়াশোনা করে একদিন প্রকৌশলী হবে।
এই স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরেই সে ভর্তি হয় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালায়। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতা তার পথ আটকে দেয়। পরিবারের ভরণপোষণের তাগিদে ২০২২ সালে তাকে বাধ্য হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে কাজের সন্ধানে ঢাকার পথে পাড়ি জমাতে হয়। অল্প বয়সেই তাকে জীবনের কঠোর সংগ্রামে নামতে হয়। তবে ইমরানের গল্প এখানে থেমে থাকেনি। কিছুদিন পর তার নানা ও মামা তার শিক্ষার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেন। নতুন করে আশার আলো জ্বলে ওঠে ইমরানের জীবনে। ২০২৪ সালে সে আবার ফিরে আসে মদনপুর আলোর পাঠশালায়। বর্তমানে সে এই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণীর একজন নিয়মিত ও পরিশ্রমী ছাত্র।
ইমরানের এই ফিরে আসার পেছনে যে শক্তি কাজ করেছে, তার বড় একটি অংশ জুড়ে আছে প্রথম আলো ট্রাস্টের অবদান। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে এই প্রতিষ্ঠান যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, ইমরান তারই একটি জীবন্ত উদাহরণ। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়, এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে শেখায় এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস জোগায়। ইমরান এখন শুধু নিজের জন্য নয়, তার পরিবারের জন্যও একটি আশার নাম। তার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম একদিন তাকে তার স্বপ্নের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে এমনটাই বিশ্বাস করেন তার শিক্ষক ও স্বজনরা।