রুবাইয়ার স্বপ্ন ব্যবসায়ী হওয়ার

রাজশাহী আলোর পাঠশালার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবাইয়া খাতুন।

রাজশাহী আলোর পাঠশালার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবাইয়া খাতুন। রুবাইয়ার আরও একজন বোন আছে। দুই সন্তানকে নিয়ে ওর বাবা-মায়ের সংসার। বাবা রংমিস্ত্রির কাজ করেন। পাশাপাশি ফুটপাতে একটা ছোট খাবারের দোকান আছে ওদের। রুবাইয়া স্কুল শেষ করে সেই দোকানে বসে বাবাকে সাহায্য করার জন্য। রুবাইয়া বড় হয়ে কি হতে চাও—জিজ্ঞেস করলে বলে যে, বড় হয়ে তার ইচ্ছে বাবা-মায়ের ছোট খাবারের দোকানটাকে একটা বড় হোটেল বানাবে। রাস্তায় দোকানের জন্য অনেকেই তাকে অনেক কিছু বলে। সে এগুলো শুনে কষ্ট পায়। তাই এই দোকান নিয়েই তার যত ইচ্ছে।

পড়াশোনা শেষ করে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী চাকরি করতে চায়। রুবাইয়া ব্যবসা কেন করতে চায় জানতে চাইলে বলল, ‘ম্যাম, আমি ছোট থেকে আমার আব্বু আম্মুর পরিশ্রমটা দেখেছি। আমার এই দোকানে থাকতে অনেক ভালো লাগে, তাই আমি দোকানটাই বড় করতে চাই। আমার এখানেই একসময় মানুষ চাকরি করবে আমার এটা ইচ্ছা।’ ব্যবসা করার জন্য তো পড়াশোনা না করলেও হয়, এর উত্তরের রুবাইয়া জানায় যে, ‘আমার  বাবা-মায়ের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই বলে অনেকেই ছোট করে দেখে। আমার জীবনে যাতে এমনটা না হয় সে জন্য পড়াশোনা করব। তা ছাড়া পড়াশোনা না করলে কোনো কিছুতেই ভালো করা যায় না। ব্যবসা করতে হলেও পড়াশোনা জানা দরকার।’

বাবা-মায়ের কাজে সাহায্য করেও রুবাইয়া কখনো স্কুলে অনুপস্থিত থাকে না। সে নিয়মিত স্কুলে আসে, শিক্ষকদের সম্মান করে। সহপাঠীদের সঙ্গে তার কখনো কোনো ঝামেলা হয় না। এই প্রজন্মের শিক্ষার্থী হয়েও তার মোবাইল ফোনের ওপরে কোনো টান নেই।

বাবা-মায়ের বড় মেয়ে সে। আলোর পাঠশালা না থাকলে রুবাইয়ার স্কুলে পড়া হতো না, হয়তো সারা দিন তার দোকানেই থাকা লাগত। রুবাইয়ার মতো শিক্ষার্থীদের প্রতিবন্ধকতার পথে সর্বদা আলো হয়ে আছে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত আলোর পাঠশালা। রুবাইয়া অনেক বড় হোক, নিজের স্বপ্নকে সত্যি করে তুলুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।