বাবুডাইং আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত

নাটোর রাজবাড়ীর সামনে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বাবুডাইং আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থীদের নিয়ে গত রোববার শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক নিদর্শনযুক্ত স্থান নাটোর রাজবাড়ি, উত্তরা গণভবন ও রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীরা। “জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ভ্রমণ আবশ্যক” প্রতিপাদ্যে এ সফরের আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে সকাল সাতটায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং গ্রামে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বাসযোগে রওনা দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় সকলের গলায় ছিল শিক্ষা সফর কার্ড। পথিমধ্যে তারা প্রথমে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি পরিদর্শন করে। এ সময় ঐতিহাসিক নিদর্শনযুক্ত পুঠিয়া রাজবাড়িসহ আশপাশের ঐতিহাসিক মন্দির ও মঠ পরিদর্শন করে। সেগুলো দেখার পাশাপাশি এসব নিদর্শনের ইতিহাস পাঠ করে। সেখান থেকে রওনা দেয় নাটোরের উদ্দেশ্যে।

নাটোরের উত্তরা গণভবনের সামনে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে নাটোরের উত্তরা গণভবনে পৌঁছায়। সেখানে থাকা বিভিন্ন ভবনসহ নানা নিদর্শন ঘুরে ঘুরে দেখে শিক্ষার্থীরা। দেখে স্মৃতি সংগ্রহশালায় রাজাদের পরিহিত পোশাকসহ বিভিন্ন বিষয়। জানতে পারে সেই সময়ের ইতিহাস সম্পর্কে। পাশাপাশি ফুলের বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করে। এ সময় সেখানে থাকা হরিণের পাল, ময়ূর, খরগোশ, গিনিপিগ, কবুতর দেখে উৎফুল্ল হয় তারা।

এরপর চলে যায় নাটোর রাজবাড়িতে। রাজবাড়িতে গিয়ে ঐতিহ্যপূর্ণ ভবনগুলো দেখার পাশাপাশি সেই সময়ের ইতিহাস জানতে পারে তারা। এ সময় সেখানে পরিদর্শনে আসা দুজন জার্মান পরিদর্শকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। পরিদর্শকদ্বয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। শিক্ষা সফরের কথা শুনে তাঁরা খুশি হন। এ সময় পরিদর্শক মার্গারেট বলেন, জ্ঞান অর্জনের জন্য ভ্রমণ করতে হবে। ভ্রমণ করলে বিভিন্ন জায়গা ও মানুষের সমাজব্যবস্থা, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়। শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তাঁরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছবিও তোলেন তাঁরা।

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ির সামনে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক প্রতিটি ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানগুলোতে গিয়ে সেগুলোর ইতিহাস তুলে ধরেন শিক্ষার্থীদের সামনে। শিক্ষার্থীরা সেগুলো মনোযোগসহকারে শোনে ও নোট নেয়। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, আজকের শিক্ষা সফর বিষয়ে যেসব শিক্ষার্থী প্রতিবেদন লিখবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। জ্ঞান অর্জনের জন্য পাঠ্যবইয়ের বাইরেও অন্য বই পড়তে হবে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে ও জ্ঞানের পরিসীমা বাড়াতে হলে বছরে দু/একবার ভ্রমণ করতে হবে। একটি ভ্রমণ আমাদের নানা বিষয়ে জ্ঞান দেয়। ভ্রমণ বিভিন্ন সমাজব্যবস্থা, সংস্কৃতি, পরিবেশ, কৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান দেয়। ঐতিহাসিক জায়গা পরিদর্শন করলে সেই সময়ের ইতিহাস জানা যায়। শিক্ষার্থীদের এসব জ্ঞানের সীমা বাড়াতেই শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়েছে।