আলোর সলতেটা নিভতে দেয়নি পাঠশালার শিক্ষকরা

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেনের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করছে বিবি খাদিজা।

অভাবের কাছে হার মানতে বসেছিল বিবি খাদিজা। বাবার অসুস্থতা, আর্থিক অনটন তাই পড়াশোনা ছেড়ে বাসা-বাড়িতে ঠিকা কাজ আর হাঁস-মুরগি পালনকেই নিজের ভবিষ্যত বলে মেনে নিয়েছিলো সে। কিন্তু আলোর সলতেটা নিভতে দেয়নি মদনপুর আলোর পাঠশালার শিক্ষকরা। স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় খাদিজার বাবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে শিক্ষকেরা। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও করা হয়। শিক্ষকদের এ ভাবে পাশে পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বিবি খাদিজা।

খাদিজা ২০২০ সালে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। পড়াশোনার পাশপাশি সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে ভলো করছিলো সে। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। ২০২২ সালে তার বাবা জসীমউদ্দীনের গ্যাসস্ট্রিক আলসার  ধরা পরে। অভাব অনটনের সংসারে নেমে আসে অন্ধকার। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের আয়ের পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। সেই সাথে বন্ধ হয়ে যায় খাদিজার লেখাপড়া। পরিবারের ভরন-পোষনের দায়িত্ব চলে আসে খাদিজার ওপর। খাদিজা পরিবারের আর্থিক ব্যায় নির্বাহের জন্য বাসা-বাড়িতে ঠিকা কাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি লালন পালন শুরু করে। মদনপুর আলোর পাঠশালার শিক্ষকরা খবর পেয়ে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। পরে শিক্ষকরা স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে তার বাবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

শুরু হয় খাদিজার নতুন পথচলা। প্রতিদিন সকালে কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির কাজ শেষ করে কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তাকে স্কুলে আসতে হয়।  এত কষ্ট করার পরেও তার চোখে মুখে রয়েছে  স্বপ্ন পূরনের তীব্র আকাঙ্খা। খাদিজা এবারের নির্বাচনী পরীক্ষায় ভাল ফল করেছে। তার স্বপ্ন  ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফল করবে। পরবর্তী সময়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে পরিবারকে অভাব অনটন থেকে মুক্ত করবে। এ প্রসঙ্গে খাদিজার বাবা জসীমউদ্দীন  বলেন, ‘মদনপুর আলোর পাঠশালা না থাকলে আমার মেয়ে খাদিজার পড়ালেখা এতদিনে বন্ধ হয়ে যেত। আমাদের পরিবার আলোর পাঠশালার প্রতি কৃতজ্ঞ।’

উল্লেখ্য, ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মেঘনা নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরে মদনপুর আলোর পাঠশালা  অবস্থিত।