বাল্যবিয়ে ‘না’: রং-তুলিতে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে ষষ্ঠ শ্রেণির রিনা

মদনপুর আলোর পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রিনা আক্তার চিত্রশিল্পী হতে চায়।

সমাজে যখন এখনো অনেক কিশোরীর শৈশব থমকে যাচ্ছে বাল্যবিয়ের অভিশাপে, তখন এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী রিনা আক্তার। মদনপুর আলোর পাঠশালার এই শিক্ষার্থী সমাজের প্রচলিত প্রথাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের স্বপ্নের পথে হাঁটার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তার স্বপ্ন একজন প্রতিষ্ঠিত চিত্রশিল্পী হওয়া।

তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট রিনা। তার বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে অনেক অল্প বয়সেই। কিন্তু রিনা সেই পথে হাঁটতে নারাজ। সে মনে করে, শিক্ষা এবং সঠিক লক্ষ্যই একজন মানুষকে প্রকৃত পরিচয় দিতে পারে। বাল্যবিবাহের অন্ধকার যেন তার শৈশবের রঙিন স্বপ্নকে কেড়ে নিতে না পারে, সে বিষয়ে সে অত্যন্ত সচেতন এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

রিনার ছোটবেলা থেকেই রঙের প্রতি এক গভীর টান। অবসর পেলেই সে বসে পড়ে কাগজ আর পেন্সিল নিয়ে। সম্প্রতি তার আঁকা একটি ছবি স্কুলে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। যেখানে সে গ্রামীণ প্রকৃতি ও মানুষের নিবিড় মেলবন্ধন ফুটিয়ে তুলেছে।

নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে রিনা জানায়, ' আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। বড় হয়ে আমি একজন শিল্পী হতে চাই যাতে আমার কাজের মাধ্যমে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারি। আমার বড় বোনদের মতো আমি দ্রুত সংসারী হতে চাই না, বরং নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।' মদনপুর আলোর পাঠশালার শিক্ষকরা জানান, রিনা শুধু মেধাবী ছাত্রই নয়, তার সৃজনশীল প্রতিভা সত্যি বিস্ময়কর। তার মতো লড়াকু মানসিকতার কিশোরীরাই পারে সমাজের চিত্র বদলে দিতে। রিনার এই সাহসিকতা এখন ওই এলাকার অনেক কিশোরীর জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।