ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন সাদিয়ার

সাদিয়া আক্তার।

প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তারের বাবা মো. শাহানুর ইসলাম পেশায় রিকশা চালক। ভাড়ায় রিকশা চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালান তিনি। নিত্য প্রয়োজনীয় অভাব মেটাতে হিমশিম সব সময়। এমতাবস্থায় ছেলেমেয়ের পড়াশোনা করানো তাঁর জন্য আকাশকুসুম স্বপ্ন।

এদিকে নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার শিক্ষকগণ হোম ভিজিটে গেলে দেখা হয় সাদিয়ার মামা মো. মাইদুল ইসলামের সঙ্গে। মাইদুল ইসলাম জানতে চান যে, প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালায় পড়াশোনার জন্য কোনো টাকা দিতে হয় কিনা। এর উত্তরে কোন ধরনের টাকা পয়সা দিতে হয় না জানান প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা প্রধান শিক্ষক। একই সঙ্গে পড়াশোনার করানোর নানা বিষয় সম্পর্কে বুঝিয়ে বলেন। সব কথা শোনে যেন আশার আলো দেখতে পেলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘স্যার মোর একটা ভাগনি আছে তোমার স্কুলতদেমো।’ পরে আলোর পাঠশালার শিক্ষকগণ তাদের মোবাইল নম্বর এবং সাদিয়ার জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি নিয়ে আসে সাদিয়াকে ভর্তি করে নেওয়া হয় প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালায়। সম্পূর্ন বিনা মূল্যে পড়তে পারবে এবং পড়াতে পেরে সাদির পরিবার খুবই খুশি হয়। এর পর থেকে পড়াশোনা করে গত ডিসেম্বরে অষ্টম শ্রেণির পাস করে এখন নবম শ্রেণিতে ভর্তি হবে।

সাদিয়া পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, চিত্র অঙ্কন, কবিতা আবৃত্তিতেও খুব পারদর্শী বিদ্যালয় তার বিভিন্ন ধরনের পারফরম্যান্স মনোমুগ্ধকর। তাঁর স্বপ্ন বড় হয়ে একজন ভালো ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা এবং সমাজে অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাঝে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দান করা।