ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় মেধাবী নিরব মুর্মু

বাবুডাইং আলোর পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিরব মুর্মু ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।

দারিদ্রতা যে কখনো বড় স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না, তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে বাবুডাইং আলোর পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিরব মুর্মু। সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে গড়ে ওঠা সাধারণ এক গ্রামের ছেলে নিরব, যার বুকভরা স্বপ্ন বড় হয়ে সে একজন প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) হবে এবং দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখবে।

নরেন মুর্মু ও যশোদা টুডু দম্পতির সন্তান নিরব। পাঁচ সদস্যের এই পরিবারটির আয়ের একমাত্র উৎস কৃষিকাজ। এর পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন তার বাবা-মা। স্বল্প আয়ে পরিবারের নিত্যদিনের ব্যয়ভার ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হলেও তারা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখা থামিয়ে দেননি। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে নিজেদের সমস্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

নিরবের বড় বোন গীতা মুর্মুও একই স্কুল থেকে ২০২৬ সালের এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। নিজের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নিরব মুর্মু বলে, দারিদ্রতা কোনো বাধা নয়। জীবনে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না এবং অনুকূল-প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকবেই। এসব কিছু মোকাবিলা করে ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো কিছুই হার মানতে পারে না। সে আরও জানায়, তার বাবা-মা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং দোয়া তাকে সবসময় সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।