‘এমন জাড় পইড়্যাছে, যে হাঁড় পরযন্তক কাঁপছে। বাতাসে বাহিরে যাওয়া যায় না। কী কষ্টে যে দিন কাটাছিনু, তা কহ্যা বুঝাইতে পারব না। তোমারঘে কম্বলখানা পাইয়্যা খুব ভালো হোইলো। একটু হোইলেও কষ্ট কম হোইবে।’ বৃহস্পতিবার দুপুরে কম্বল পেয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং গ্রামের বাসিন্দা পানমুনি মুরমু (৬৮)।
বাবুডাইং গ্রামে অবস্থিত প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালা প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আশপাশের গ্রামবাসী মিলিয়ে ২৭০ জনের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
হাল্ট প্রাইজ এট ইউল্যাব ২০২৫/২৬-এর করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) প্রোগ্রামের মাধ্যমে এসব কম্বল দেওয়া হয়। এতে সহযোগিতা করে সোয়ান গ্রুপ ও টুয়েলভ ক্লথিং। হাল্ট প্রাইজ এট ইউল্যাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার ডেপুটি টিম লিডার এএইচএম মুনাইমুল আজম ও স্পেশাল আউটরিচ গেস্ট ইসরাত জাহান মিম।
স্বাগত বক্তব্য দেন বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, বাবুডাইং আলোর পাঠশালার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম, বাবুডাইং গ্রামের কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নেত্রী রুমালী হাঁসদা, মোড়ল চানু হাঁসদা, মাধব সরেন, লাছাম মুরমু, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন।
বেলা সোয়া ১১টায় শুরু হয় বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক সমাবেশ। প্রার্থনা, শপথবাক্য পাঠ ও জাতীয় সংগীতের পর আগত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরপর শিক্ষার্থীদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। কম্বল পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
কম্বল বিতরণের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিতে গিয়ে বক্তারা বলেন, সুবিধাবঞ্চিত এ অঞ্চলে প্রচণ্ড শীতে কম্বল অসহায় মানুষদের কথা মনে রেখে কম্বল দিতে আসা একটি মহৎ উদ্যোগ। এমন ভালো মনের মানুষদের কারণেই আজও মানবতা বেঁচে আছে। কম্বল বিতরণে উদ্যোগীদের ধন্যবাদ।
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বাবুডাইং আলোর পাঠশালার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরমিলা হাঁসদা বলে, আমরা একটি সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় বাস করি। এখানে সরকারি তেমন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় না। আমাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে যারা আজকে কম্বল দিলেন, খুব ভালো হলো। যেভাবে এ বছর শৈত্য প্রবাহ হচ্ছে, তাতে এ এলাকার শিশুরা খুব কষ্ট পাচ্ছে। কম্বল পেয়ে তাদের খুব উপকার হলো। আয়োজকদের অনেক ধন্যবাদ।