দূর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে পারিচালিত হয় মদনপুর আলোর পাঠশালা।

ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় মূল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন মদনপুর চরে আলো ছড়াচ্ছে একমাত্র মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান 'মদনপুর আলোর পাঠশালা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ । চারপাশে নদী মাঝখানে একটি ইউনিয়ন যার নাম মদনপুর। এখানে প্রায় ১২ হাজার লোকের বাস। বিচ্ছিন্ন চরের এই ইউনিয়নে একটি মাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাই । ফলে চরে বসবাসকারী মানুষের ছেলেমেয়েরা মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আগ্রহ থাকলেও অভাবের সংসারে অনেকে আবার দূরের কোনো মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানে পড়াতে পারেন না।

মদনপুর আলোর পাঠশালা

চরবাসীদের এমন অবস্থায় প্রথম আলোর ভোলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় মানুষের সমন্বয়ে ২০১৩ সালে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘মদনপুর আলোর পাঠশালা’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করা হয়। এই আলোর পাঠশালাই শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে পুরো মদনপুর ইউনিয়নে। বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১২০ শিক্ষার্থী রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। স্কুলের ভিতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা দিচ্ছেন তরুন শিক্ষকেরা। অবহেলিত এই চরে শিক্ষার্থীদের জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে বিদ্যালয়টি।

মদনপুর আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক মো. আক্তার হোসেন বলেন, ২০১৩ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করার পর চরাঞ্চলের শিশুদের মাঝে আলো ছড়াচ্ছে আলোর পাঠশালাটি। সহকারী শিক্ষক মো. আল আমিন বলেন, দিন দিন বিদ্যালয়টি এগিয়ে যাচ্ছে।

সামিট গ্রুপের সহযোগিতায় প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এসব দুর্গম এলাকায় ছয়টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ছয়টি স্কুলের মধ্যে মদনপুর আলোর পাঠশালা। ছয়টি আলোর পাঠশালায় বিনা মূল্যে মোট ১ হাজার ২০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।