নদীভাঙনে কেড়ে নিয়েছে সব, ভাগ্য গড়তে হাসু এখন দুবাইয়ে

প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার সাবেক শিক্ষার্থী মো. হাসু মিয়া।

প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার (কুড়িগ্রাম) সাবেক শিক্ষার্থী মো. হাসু মিয়া একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি কবিতা আবৃতিতেও তার অসাধারণ কৃতিত্ব ছিল তাঁর। কিন্তু চরবাসী হওয়ায় নদী তাদের নিত্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কালক্রমে দুধকুমার নদের ভাঙনে তাঁর পরিবারটির সব বিলীন হয়ে যায়। সব হারিয়ে পরিবারটি দিশা হারা হয়ে পড়ে। তখন হাসু মিয়ার মাথায়ও দুশ্চিন্তা ভর করে। এ সময় হাসুর মামা মো. মোস্তফা কামালের সহযোগিতায় হাসু মিয়া জীবিকার তাগিদে বিদেশে (দুবাই) চলে যান। এখন সে দুবাইয়ে একটি কোম্পানিতে কাজ করছেন। কাজ করে প্রতি মাসে বাড়িতে টাকা পাঠান। হাসুর পরিবার এখন অনেকটা সচ্ছল।

প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক হাসুর বাবা মো. পনির উদ্দিনের কাছে হাসুর বিষয়ে জানতে চান। তাঁর বাবা বলেন, ‘আমার বড় স্বপ্ন ছিল হাসুকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু আমার সে স্বপ্ন স্বপ্নেই থেকে গেল নদীর কারণে। আমার ছেলের যে বয়সে থাকার কথা ছিল পড়ার টেবিলে, এখন সেই বয়সে সে একজন প্রবাসী। তার আয়ের টাকা দিয়ে চলে আমার সংসার। যাহোক, সবই আল্লাহ ইচ্ছা। সে যেখানে আছে, ভালোই আছে। আপনার সবাই হাসুর জন্য দোয়া করবেন।’